ইরানের ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়িয়ে ২০৩১ সাল পর্যন্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যকারী কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’-এ স্বাক্ষর করেন। এর আগে বিলটি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হয়।
নতুন আইনটির অন্যতম অংশ হলো ইরান স্যাংশনস অ্যাক্টের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো। এর ফলে ইরানের জ্বালানি খাতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আইনি কাঠামো ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে।
আইনটির বড় অংশ অবশ্য রাশিয়াকে কেন্দ্র করে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, দেশটির বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। তবে কোন দেশের ওপর কত হারে শুল্ক আরোপ করা হবে, তা নির্ভর করবে আইনটির বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির জ্বালানি ও আর্থিক খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ, মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা ব্যবহারে বাধা এবং ডলারে লেনদেন সীমিত করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত বিদেশি কোম্পানি, ব্যাংক ও তেল পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে নতুন আইনের মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হচ্ছে দেশটির জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নের সক্ষমতা সীমিত করা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?