তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট কোনো স্বল্পমেয়াদি বা জোড়াতালির বাজেট নয়; এটি বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা শুধু সামাজিক নিরাপত্তাই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করারও কার্যকর উদ্যোগ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ সহায়তা প্রান্তিক মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামের মুদি দোকান, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শহর-গ্রামের অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতেও ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে এ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এখন অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছেন।
ডিজিটাল যুগে গুজব ও অপপ্রচারকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা জোরদার এবং গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
নতুন প্রজন্মের ইতিবাচক মানসিক বিকাশে শর্ট ফিল্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষের বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এতে দেশের কোটি কোটি মানুষ বিনামূল্যে খেলা উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকা নান্দাইলের ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের একপর্যায়ে বাবা-মায়ের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।