শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং কৃষিবিদ ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বক্তারা এ ঘটনাকে পেশাজীবী সমাজের জন্য “লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক” উল্লেখ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে এ্যাবের সাবেক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদরা অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খোন্দকার আসাদুজ্জামান কিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মো. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মাহবুব ইসলাম, শেকৃবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ মো. সাইফুল্লাহ আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ড. মমতাজ আলী, সাবেক
সভাপতি কৃষিবিদ মো. এমদাদুল হক দুলু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো. লুৎফুর রহমান মৃদুল, সাবেক সভাপতি কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম নোবেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মার্শাল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ মিল্টন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ
মেহেদী মোহাইমেনুর রহমান পলাশ, সাবেক সহ-সভাপতি কৃষিবিদ আব্দুর রশিদ ডাবলু, সাবেক সহ-সভাপতি কৃষিবিদ মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক নেতা কৃষিবিদ ড. মো. আক্কাছ আলী, সাবেক সহ-সভাপতি কৃষিবিদ মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি কৃষিবিদ রেদওয়ান রিশাদ এবং সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক কৃষিবিদ মো. জাকির হোসেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কেআইবির মতো একটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানে আর্থিক লেনদেন, চাপ প্রয়োগ ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবাদ জানানোর পর গত ৪ জুন কেআইবি প্রাঙ্গণে কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন পারভেজের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। পরে ১৬ জুন হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কৃষিবিদ সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ভিডিও ফুটেজে কৃষিবিদ ডা. শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঙ্গে পারভেজের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা পারভেজের ওপর হামলা চালান। তারা ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশে আরও বলা হয়, কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন পারভেজ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পেশাজীবী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এমন একজন পেশাজীবী নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা বলেন, পেশাজীবী সংগঠনের ভেতরে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সারাদেশের কৃষিবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।