বন্ধ ও লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে আগ্রহী দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিনিয়োগ রোডশোতে ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই আপনারা এগিয়ে যান, সমৃদ্ধ হোন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে।”
শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ রোডশোর আয়োজন করে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তাফা জুলফিকার হাসান জানান, বন্ধ ও অকার্যকর রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই ছিল অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো উন্নয়নের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ তৈরি করা। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যেতে পারে।
তিন ঘণ্টারও বেশি সময়ব্যাপী আলোচনা শেষে তারেক রহমান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা সেগুলো অতিক্রম করতে পারি।”
অনুষ্ঠানে ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানার বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এতে কারখানাগুলোর অবস্থান, বিদ্যমান অবকাঠামো, সম্ভাব্য বিনিয়োগ সুবিধা, পরিবহন সংযোগ এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ তুলে ধরা হয়।
পরে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫০টি প্রশ্ন উত্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে।
অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রোডশোতে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, ট্রান্সকম গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ ও লাল তীর।
এ ছাড়া জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কো. (এশিয়া প্যাসিফিক), সোজিৎস এশিয়া, জেট্রো বাংলাদেশ কার্যালয় এবং বাংলাদেশে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা ছিলেন।