বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের নতুন ধাপ শুরু হচ্ছে আজ।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বিচার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রথমে মামলার সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করা হবে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
মামলার চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম এবং এএসআই জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ পলাতক রয়েছেন।
এর আগে গত ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে সূচনা বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলার ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কসংলগ্ন গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের মতে, ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচিত এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।