সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের একটি সাহসী রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নের যে পরিকল্পনা সরকার উপস্থাপন করেছে, তা প্রশংসার দাবিদার।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। একটি ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের জন্য কিছু ঘাটতি অনিবার্য হলেও বাজেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এর বহুমাত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি বলেন, কন্টেন্ট নির্মাতা, কৃষক, কর্মজীবী নারী, প্রবাসী, শিক্ষার্থী ও রোগীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন ও স্বার্থকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখার প্রস্তাব এবং ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের উদ্যোগ তরুণদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, নারীদের নামে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করসুবিধা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
কর্মজীবী নারীদের সহায়তায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিপুন রায় বলেন, সরকার প্রথম ধাপে ২০টি এবং পরবর্তী ধাপে আরও ৬০টি আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা কর্মজীবী মায়েদের জন্য বাস্তবসম্মত সহায়তা নিশ্চিত করবে।
নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্যানিটারি ন্যাপকিনের কাঁচামাল আমদানিতে করসুবিধা বহাল থাকলেও এর সহজলভ্যতা ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি স্যানিটারি ন্যাপকিনকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।
এছাড়া কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সার ও কৃষি উপকরণে সহায়তা, ক্যানসারের ওষুধ, হার্টের রিং ও ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর কর হ্রাস, প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে স্মার্ট স্কিল ব্যাংক চালুর উদ্যোগকে তিনি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সমালোচনা নয়, গঠনমূলক প্রস্তাব ও সমাধান নিয়ে বাজেট আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত।
নিপুন রায় চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।