জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে অবৈধ সিদ্ধান্তকে বৈধতা দিত। শুধু তাই নয়, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা যা নির্দেশ দিতেন, দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্ক্রলে ঠিক সেই নির্দেশই প্রচার করা হতো।
মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দি দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে ‘প্রথম শহীদ’ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার মামলায় সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন তিনি। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ন্যায়বিচার ব্যবস্থা ছিল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত। সরকারের ইঙ্গিত ছাড়া কোনো গুরুত্বপূর্ণ মামলা এগোতো না, আর বিচারিক সিদ্ধান্তও হতো ক্ষমতাসীনদের স্বার্থ অনুযায়ী। তিনি আরও বলেন, সেসময় সাধারণ মানুষই শুধু নয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা যেসব বার্তা দিতেন, তা হুবহু দেশের প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর স্ক্রলে প্রচার করা হতো। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল এবং জনগণ প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হতো।
জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদ হত্যার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা গোটা দেশকে নাড়া দিয়েছিল। তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং বলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অতীতে যা ঘটানো হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে।
ট্রাইব্যুনালে তার এ সাক্ষ্য রাজনৈতিক ও বিচারিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগের সরকারের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারব্যবস্থার দাবি আরও জোরালো হবে।