মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ‘নিষ্ক্রিয়’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকামিনিয়া রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়ে ইরানের কৌশল স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমরা শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাব এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ অবশ্যই নিষ্ক্রিয় করে দেব।”
আইআরএনএ জানিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন ধারণা ভুল। সংস্থাটির দাবি, উপকূল বা দ্বীপের অবস্থান যাই হোক না কেন, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে সক্ষম ইরান।
এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপের পর দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় বলে দাবি করা হয়। এর জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর। এরপর ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। শনিবার রাতে প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করত। চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের গ্রেটার তুনব দ্বীপে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা ও মার্কিন সেনাদের অবস্থানেও হামলার দাবি করেছে তারা।
রয়টার্সের বরাতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, আহভাজ, কোনারাক, সিরিক ও কেশমসহ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তেহরান ও আশপাশের এলাকাতেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থা’ বজায় রাখা দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চলমান সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
এদিকে চলমান সংঘাতে হতাহত ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ইরান ও লেবাননে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?