মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

তীব্র গরমের মধ্যে দফায় দফায় লোডশেডিং, বিপর্যস্ত মুন্সীগঞ্জের জনজীবন

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দারা। দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নয়, মধ্যরাত থেকে শুরু করে ভোর, সকাল ও দুপুরেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। […]

তীব্র গরমের মধ্যে দফায় দফায় লোডশেডিং, বিপর্যস্ত মুন্সীগঞ্জের জনজীবন

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১১ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৯

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দারা। দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নয়, মধ্যরাত থেকে শুরু করে ভোর, সকাল ও দুপুরেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত কয়েক দিন ধরে মুন্সীগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের এমন অবস্থা চলছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।

পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মও স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমের সমস্যায় পড়ছেন অনেক বাসিন্দা।

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তাঁদের এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাবাজার এলাকার গিয়াস উদ্দিন শেখ অভিযোগ করেন, প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের এক বাসিন্দার দাবি, তাঁদের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কাদির মাল জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় দিনে রাতে মোট ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে।

লৌহজং উপজেলার মৌছা এলাকার এক বাসিন্দার ভাষ্য, তাঁদের এলাকায় সারাদিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

শুধু উপজেলার গ্রামাঞ্চলেই নয়, মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ রয়েছে। শহরের ইদ্রাকপুর, দেওভোগ, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, পাঁচঘড়িয়াকান্দি ও কাটাখালিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

টানা লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শতাধিক গ্রাহক। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে তাঁদের বিক্ষোভ। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিক্ষোভকারীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত গরমের মধ্যেও প্রতিদিন দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে।

এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষোভকারীরা।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মানোয়ার মোরশেদ। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

শেখ মানোয়ার মোরশেদ জানান, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১১৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।

এই ঘাটতির কারণে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ২ আগস্টও মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, জেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। ওই সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

তবে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের এমন ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।