মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দারা। দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নয়, মধ্যরাত থেকে শুরু করে ভোর, সকাল ও দুপুরেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত কয়েক দিন ধরে মুন্সীগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের এমন অবস্থা চলছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কাজকর্মও স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমের সমস্যায় পড়ছেন অনেক বাসিন্দা।
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তাঁদের এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাবাজার এলাকার গিয়াস উদ্দিন শেখ অভিযোগ করেন, প্রায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।
শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের এক বাসিন্দার দাবি, তাঁদের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের কাদির মাল জানিয়েছেন, তাঁদের এলাকায় দিনে রাতে মোট ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে।
লৌহজং উপজেলার মৌছা এলাকার এক বাসিন্দার ভাষ্য, তাঁদের এলাকায় সারাদিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।
শুধু উপজেলার গ্রামাঞ্চলেই নয়, মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ রয়েছে। শহরের ইদ্রাকপুর, দেওভোগ, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ, পাঁচঘড়িয়াকান্দি ও কাটাখালিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
টানা লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৩ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শতাধিক গ্রাহক। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে তাঁদের বিক্ষোভ। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। এ জন্য কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, অতিরিক্ত গরমের মধ্যেও প্রতিদিন দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে।
এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষোভকারীরা।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মানোয়ার মোরশেদ। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় গ্রাহক পর্যায়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
শেখ মানোয়ার মোরশেদ জানান, বর্তমানে মুন্সিগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১১৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে।
এই ঘাটতির কারণে প্রায় ৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে গত ২ আগস্টও মুন্সীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, জেলার বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। ওই সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের এমন ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড।