মাহিনুর ইসলাম মাহিন, বড়লেখা প্রতিনিধি:
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের কৃষক বিপুল দাসের বাড়িতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নাসির উদ্দিন আহমদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম মাহবুব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাশেদুজ্জামান বিন হাফিজ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বর্ণি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুর ইসলাম, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রব, জুড়ী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চুনু, বর্ণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি লোকমান উদ্দিন বায়েছ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান সরওয়ার, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে বর্ণি ইউনিয়নের উজিরপুর, মিহারী, ফরিংগা, নয়াগ্রাম, কান্দিগ্রাম, বর্ণি, বর্ণি ছেগা ও শিলকুরা গ্রামের কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তীতে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের কৃষকদেরও এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে। এতে সার ও বীজ বিতরণে অগ্রাধিকার, সরকারি কৃষি প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সুবিধা, দুর্যোগে বিশেষ সহায়তাসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন সেবা সহজে পাওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কৃষক কার্ড সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে এবং সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা সঠিক কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
তিনি বলেন, কৃষি ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমানে চাল ও গম আমদানিতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে খাদ্য উৎপাদন আরও বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
এমপি বলেন, একসময় বড়লেখার বিভিন্ন এলাকায় ধানের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বাদাম চাষ হতো। বিশেষ করে সুনাই নদীর দুই তীরজুড়ে বাদামের আবাদ ছিল উল্লেখযোগ্য। সময়ের ব্যবধানে সেই চাষাবাদ কমে গেলেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগে এখন আবার ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন অর্থকরী শস্যের আবাদ বাড়ছে। এ ধারা আরও সম্প্রসারণে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বর্ষা মৌসুমে ধান চাষ করেই বসে থাকলে চলবে না। শীত মৌসুমে সবজি, ডাল, তেলবীজ ও অন্যান্য লাভজনক ফসলের আবাদ বাড়াতে হবে। কৃষিতে বৈচিত্র্য আনতে পারলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ শাহবাজপুরের মোহাম্মদনগর ও ঝিঙ্গাগ্রামে দেশের অন্যতম বেশি ঝিঙ্গা উৎপাদিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের লাভজনক ফসলের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা গেলে বড়লেখার কৃষি অর্থনীতি নতুন মাত্রা পাবে।
শেষে তিনি বলেন, বড়লেখার সার্বিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় সংসদে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেক প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং বাকি প্রকল্পগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।