ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো প্রকার সরাসরি আলোচনা বা সংলাপ চলছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি। গত মাসে ইরান অভিমুখে ইসরায়েল ও
যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলার পর থেকে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদান হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি এসব তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকারে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন পক্ষ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আমাদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাঠাতে শুরু করেছে। তবে একে কোনোভাবেই ‘আলোচনা’ বা ‘সংলাপ’ বলা যাবে না। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে যখন আমাদের কাছে কোনো বার্তা আসে, তখন আমরা কেবল আমাদের নীতিগত অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা তাদের জানিয়ে দিই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার বিষয়ে ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। এই সতর্কবার্তার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের পূর্বঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোর পরিকল্পনা থেকে পিছু হটেছে।
আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না এবং এই যুদ্ধ তারা শুরুও করেনি। তবে তেহরান এমনভাবে এই সংঘাতের অবসান চায় যাতে এর আর কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সাধারণ কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আমরা আলোচনা, যুদ্ধ এবং সাময়িক শান্তির সেই পুরোনো ‘দুষ্ট চক্রে’ আটকা পড়তে চাই না। ইরান নিজের শর্ত অনুযায়ী এই যুদ্ধের অবসান চায়।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে আরাগচি জানান, এই জলপথটি মূলত ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার অংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে ইরান গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আরাগচির এই বক্তব্য মূলত ট্রাম্পের সেই দাবিরই পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?