বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অর্থনীতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন. বাংলাদেশে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) করার এখনই ‘সর্বোত্তম সময়’। কারণ পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলবো এটিই সঠিক সময়। তাই, দয়া করে এখানে বিনিয়োগ করুন। আমি বলতে চাই আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে প্রতিদিনই এগুলো সমাধান করা […]

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৫, ০০:২২

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন. বাংলাদেশে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) করার এখনই ‘সর্বোত্তম সময়’। কারণ পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো এটিই সঠিক সময়। তাই, দয়া করে এখানে বিনিয়োগ করুন। আমি বলতে চাই আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে প্রতিদিনই এগুলো সমাধান করা হচ্ছে এবং অগ্রগতিও প্রতিদিন স্পষ্ট হচ্ছে এবং এই অবস্থার আরও উন্নতির হবে।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে জাতীয় বার্তা সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

গত সাড়ে সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতের সামগ্রিক আস্থার মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বলেন, আমি খারাপ কিছু দেখছি না। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর, পরিস্থিতি সঠিক দিকে এবং আরও ভালো দিকে এগিয়ে গেছে। এটি আরও উন্নত হবে। তাই, দেশে বিনিয়োগ করার জন্য এটি ‘সর্বোত্তম সময়’।

বশির উদ্দিন বলেন, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব নীতি বিবেচনা করলে দেশের অর্থনীতিতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করার পরিবর্তে বা সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পরিবর্তে, সেই সময়কালে দেশে ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটেছিল।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগের সময় মূলধনের সমান বণ্টন থাকা উচিত, কিন্তু সেই সময়কালে অর্থ পাচারের মাধ্যমে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের পর যারা আত্মগোপনে গিয়েছিল তাদের মাধ্যমেও মূলধন ভুল পথে চলে যায়।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি মনে করি ভবিষ্যতের পরিবেশ অবশ্যই অনেক ভালো হতে পারে। তবে, আমি মনে করি দেশে বিনিয়োগের জন্য এখন একটি সম্পূর্ণ অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং, বিনিয়োগ করা উচিত… সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আগামী দিনে আরও বাণিজ্য উদারীকরণ করবে।’

বশির উদ্দিন বলেন, সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য যত বেশি বিনিয়োগ তৈরি হবে, সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য আরও অনেক বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সমস্যা থাকবে, তবে বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এফডিআই-এর হ্রাসের প্রবণতা কিছুটা উদ্বেগজনক, বিশেষ করে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক দায়বদ্ধতার মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, অসংগতিপূর্ণ নীতি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং আন্তঃসংস্থার ভুল সমন্বয়কে এফডিআই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এমনকি কম শ্রম ব্যয়ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ আওয়ামী লীগের ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসনকালে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির সঙ্গে এই কারণগুলোর সংমিশ্রণে- অবশেষে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বছর মাসব্যাপী বিক্ষোভ এবং আওয়ামী লীগের সহিংস নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে, যার ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বর্তমানে, সরকার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা, অসংগতি চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তার উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সরকার ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার প্রদর্শনের জন্য ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী অর্থনৈতিক সংস্কার তুলে ধরা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরি করা।

চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর এবং জাপানসহ ৫০টি দেশের ৩ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

শীর্ষ সম্মেলনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম, মিরসরাই এবং কোরিয়ান ইপিজেড পরিদর্শন করবেন, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগের দৃশ্যপট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

এছাড়াও, একই দিনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় একটি স্টার্টআপ-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) পরিদর্শন করবেন এবং তারপরে সন্ধ্যায় একটি নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রদূত, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক নির্বাহীদের সঙ্গে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

দিনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে যুব উদ্যোক্তা প্রদর্শনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক একটি ব্রেকআউট অধিবেশন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরবে।

১০ এপ্রিল, একাধিক ব্রেকআউট অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেমন ডিজিটাল অর্থনীতি (সিটি এনএ এবং ইউএনডিপির নেতৃত্বে), টেক্সটাইল (এইচএসবিসি এবং বিজিএমইএ), কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ (ডাচ দূতাবাস এবং এলসিপি), এবং স্বাস্থ্যসেবা (ইন্সপাইরা, ইবিএল এবং সাজিদা ফাউন্ডেশন)।

ওইদিন একটি ম্যাচমেকিং অধিবেশন এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের সর্বোত্তম অনুশীলনের উপর একটি গোলটেবিল আলোচনাও থাকবে।

বাসস

অর্থনীতি

যে কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে স্বর্ণের দাম কমছে। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার […]

যে কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৫

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে স্বর্ণের দাম কমছে।

জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার (১২ জুন) এটি নেমে আসে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হয়ত সুদের হার কমাবে না। উলটো দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারা সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি আগ্রহী হচ্ছেন না।

বর্তমান এই মুদ্রাস্ফীতির বড় একটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার প্রতিবাদে যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এতে করে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। যার প্রভাবে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি।

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া দেশটির চাকরির বাজারও থমকে আছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমাবে এমন কোনো সম্ভাবনা খুবই কম।বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলার একটি হাতিয়ার (হেজ) হিসেবে কাজ করলেও, উচ্চ সুদের হার সাধারণত এই মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বর্ণকে মূলত একটি ‘মুনাফাহীন’ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ নিজস্ব মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া এটি থেকে বাড়তি কোনো আয় বা লভ্যাংশ আসে না। অন্য কথায়, স্বর্ণ থেকে মুনাফা করতে হলে কেবল এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে হয়।

আলজাজিরাকে আর্থিক খাতের ওয়েবসাইট ‘অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের’ প্রধান অপশন অ্যানালিস্ট জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, ‘যেকোনো সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ প্রকৃত অর্থের (টাকার) সবচেয়ে কাছাকাছি একটি রূপ। এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, আবার দাম না বাড়া পর্যন্ত এর বাড়তি কোনো মূল্যও তৈরি হয় না। মানুষ মূলত মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভরসা করেই স্বর্ণ কেনে।’জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেছেন, যা সুদহার বৃদ্ধি ও স্বর্ণকে সরাসরি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে। সুদহার বেশি থাকলে স্বর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে তার ক্ষমতা হারায় এবং মানুষ তখন বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লাম আলজাজিরাকে বলেন, যখন ডলার শক্তিশালী হয় তখন স্বর্ণ চাপটি টের পায়। যখন ডলার দুর্বল থাকে তখন স্বর্ণের দাম বাড়ে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী। যার চাপটি টের পাচ্ছে স্বর্ণ। তবে সামনে কি হবে সেটি নিশ্চিত নয়।

অর্থনীতি

ওয়ালটনে পালিত হলো জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস

“মনোসামাজিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করি, শোভন কর্মপরিবেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘নিরাপত্তা দিবসের প্রত্যয় আজ, পারমিট নিয়ে করবো কাজ’ স্লোগানে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড Walton-এ পালিত হলো জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ওয়ালটন সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে বিশেষ সেফটি র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি […]

ওয়ালটনে পালিত হলো জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস

ওয়ালটনে পালিত হলো জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস

নিউজ ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪০

“মনোসামাজিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করি, শোভন কর্মপরিবেশ গড়ি” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘নিরাপত্তা দিবসের প্রত্যয় আজ, পারমিট নিয়ে করবো কাজ’ স্লোগানে নানান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশের শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড Walton-এ পালিত হলো জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ওয়ালটন সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে বিশেষ সেফটি র‍্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ইএইচএস বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ওয়ালটন তার প্রতিটি কর্মীর সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। শিল্প কারখানায় দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেফটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রাখতে ইএইচএস বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেশিনারিজ সেফটি, কেমিক্যাল হ্যান্ডলিং এবং অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বিএনবিসি বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির হেডকোয়ার্টার্সে এনভায়রনমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড সেফটি (ইএইচএস) বিভাগের পক্ষ থেকে নানান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‍্যালি, আলোচনা সভা, আইডিয়া শেয়ারিং এবং ‘নিয়ার মিস ও হ্যাজার্ড রিপোর্টিং’ কনটেস্টে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ, এবং উপস্থিত সকলের মাঝে পরিবেশবান্ধব গাছ ও লাইফ সেভিং কার্ড বিতরণ ইত্যাদি।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। তার উপস্থিতিতে কর্মীদের মাঝে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়।

মোহাম্মদ ইউসুফ আলী তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, “‘সুস্থ শ্রমিক, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চাই। ওয়ালটন সবসময় আন্তর্জাতিক মানের সেফটি কমপ্লায়েন্স মেনে চলে এবং ভবিষ্যতেও আমরা প্রতিটি কর্মীর জন্য একটি বিপদমুক্ত কর্মস্থল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপত্তা আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশ হয়ে উঠেছে, এবং যা সকল দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দ্বারা অর্জিত হয়েছে।”

আলোচনা সভায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ইএইচএস বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু বলেন, “ওয়ালটনে কর্মরত প্রত্যেকেই একটি পরিবার। ওয়ালটন তার পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বহু কর্মসূচি চলমান রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি নিরূপণ, নিয়মিত মনিটরিং, নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান, থার্ড পার্টি অডিট, দুর্ঘটনা পরবর্তী তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত ফায়ার ড্রিল, ভালো কাজে পুরস্কার প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পারমিট গ্রহণ, সময়োপযোগী বিভিন্ন ক্যাম্পেইন, ভিজ্যুয়াল অ্যাওয়ারনেস ইত্যাদি। একজন সুস্থ ও সুরক্ষিত কর্মী কোম্পানির সম্পদ এবং তারা কোম্পানির উন্নয়নে অনেক অবদান রাখতে পারে। ওয়ালটন শ্রমিক কল্যাণ তহবিল ও সরকারি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কর্মীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।”

আলোচনা সভায় শ্রমিক অংশগ্রহণকারী কমিটির পক্ষে সহ-সভাপতি ও শ্রমিক প্রতিনিধি উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমরা একটি নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে চাই। আমরা আরও সচেতন হবো এবং আমাদের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার করব। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা— কর্মক্ষেত্র আরও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টরের বিজনেস কো-অর্ডিনেটর প্রতিক কুমার মোদক, প্রশাসন বিভাগের প্রধান তানভীর আহমেদ। এছাড়া, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিরা, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টরের ডেপুটি সেলিম রাজা রাসেল, ইএপি সিসিও (চিফ কোয়ালিটি অফিসার) মো. মুজাহিদুল ইসলাম, সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মামুন, টিভি প্রোডাকশন প্রধান কাজি এম হাসিবুল হক, ইএসএম (মেকানিক্যাল) বিভাগের প্রধান টি এম জাকির হোসেইন, ইএসএম (ইলেকট্রিক্যাল) মো. নাজমুল ইসলাম, ইএসএম (ইলেকট্রনিক্স) বিভাগের প্রধান কামরুল হাসান, রেফ্রিজারেটর প্রোডাকশন উপ-বিভাগীয় প্রধান মো. রিপন হায়দার, ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মোবাইল প্রোডাকশন ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জমান, ইএইচএস বিভাগের মো. মাহফুজ হোসেন, মো. তাজমীর হাসান, মো. রায়হান এবং মো. ইশাদুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা, অংশগ্রহণকারী কমিটি ও সেফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধিসহ ঊর্ধ্বতন আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইএইচএস-এর বিভাগীয় প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু।

অর্থনীতি

চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: অর্থ উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ মে ২০২৬, ১৭:৫৩

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ড. তিতুমীর স্পষ্ট করেন যে, সরকার এই বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের পরিবর্তে এর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছে এবং এই কাঠামোর অধীনেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায়।

তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, চুক্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিষয় থাকলে তা নিয়ে আলোচনার পথ সব সময় খোলা থাকবে।

অর্থ উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কাজে লাগানো হবে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প খাতে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দর্শন ব্যাখ্যা করে ড. তিতুমীর বলেন, “বাংলাদেশ কোনো একক রাষ্ট্রের সঙ্গে এক্সক্লুসিভ বা বিশেষ সম্পর্কে বিশ্বাসী নয়, বরং আমরা সবার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক বা ইনক্লুসিভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।

” তিনি আরও যোগ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেমন মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একইভাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সব বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের পণ্যের জন্য মার্কিন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

আজকের এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই চুক্তির ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।