সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অর্থনীতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন. বাংলাদেশে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) করার এখনই ‘সর্বোত্তম সময়’। কারণ পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলবো এটিই সঠিক সময়। তাই, দয়া করে এখানে বিনিয়োগ করুন। আমি বলতে চাই আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে প্রতিদিনই এগুলো সমাধান করা […]

বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার এখনই উপযুক্ত সময় : বাণিজ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৫, ০০:২২

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেছেন. বাংলাদেশে স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) করার এখনই ‘সর্বোত্তম সময়’। কারণ পরিস্থিতি সঠিক দিকে এগোচ্ছে এবং অগ্রগতি দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি বলবো এটিই সঠিক সময়। তাই, দয়া করে এখানে বিনিয়োগ করুন। আমি বলতে চাই আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে প্রতিদিনই এগুলো সমাধান করা হচ্ছে এবং অগ্রগতিও প্রতিদিন স্পষ্ট হচ্ছে এবং এই অবস্থার আরও উন্নতির হবে।’

বাণিজ্য উপদেষ্টা সম্প্রতি বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে জাতীয় বার্তা সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

গত সাড়ে সাত মাস ধরে বেসরকারি খাতের সামগ্রিক আস্থার মূল্যায়ন করতে বলা হলে তিনি বলেন, আমি খারাপ কিছু দেখছি না। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর, পরিস্থিতি সঠিক দিকে এবং আরও ভালো দিকে এগিয়ে গেছে। এটি আরও উন্নত হবে। তাই, দেশে বিনিয়োগ করার জন্য এটি ‘সর্বোত্তম সময়’।

বশির উদ্দিন বলেন, গত প্রায় ১৬ বছর ধরে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের আর্থিক ও রাজস্ব নীতি বিবেচনা করলে দেশের অর্থনীতিতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করার পরিবর্তে বা সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পরিবর্তে, সেই সময়কালে দেশে ঠিক বিপরীত ঘটনা ঘটেছিল।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বিনিয়োগের সময় মূলধনের সমান বণ্টন থাকা উচিত, কিন্তু সেই সময়কালে অর্থ পাচারের মাধ্যমে এবং বিদেশে অর্থ পাচারের পর যারা আত্মগোপনে গিয়েছিল তাদের মাধ্যমেও মূলধন ভুল পথে চলে যায়।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেখানে সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি মনে করি ভবিষ্যতের পরিবেশ অবশ্যই অনেক ভালো হতে পারে। তবে, আমি মনে করি দেশে বিনিয়োগের জন্য এখন একটি সম্পূর্ণ অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং, বিনিয়োগ করা উচিত… সরকার এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আগামী দিনে আরও বাণিজ্য উদারীকরণ করবে।’

বশির উদ্দিন বলেন, সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য যত বেশি বিনিয়োগ তৈরি হবে, সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য আরও অনেক বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ফলে সুযোগ তৈরির পাশাপাশি সমস্যা থাকবে, তবে বিনিয়োগের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এফডিআই-এর হ্রাসের প্রবণতা কিছুটা উদ্বেগজনক, বিশেষ করে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক দায়বদ্ধতার মধ্যে।

বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা, অসংগতিপূর্ণ নীতি, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিরতা এবং আন্তঃসংস্থার ভুল সমন্বয়কে এফডিআই হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এমনকি কম শ্রম ব্যয়ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ আওয়ামী লীগের ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে শাসনকালে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতির সঙ্গে এই কারণগুলোর সংমিশ্রণে- অবশেষে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত বছর মাসব্যাপী বিক্ষোভ এবং আওয়ামী লীগের সহিংস নিপীড়নমূলক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে, যার ফলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যাহত হয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বর্তমানে, সরকার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা, অসংগতি চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তার উদ্যোগের অংশ হিসেবে, সরকার ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দেশের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার প্রদর্শনের জন্য ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী অর্থনৈতিক সংস্কার তুলে ধরা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পাইপলাইন তৈরি করা।

চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, সিঙ্গাপুর এবং জাপানসহ ৫০টি দেশের ৩ হাজারেরও বেশি বিনিয়োগকারী এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

শীর্ষ সম্মেলনের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে, দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম, মিরসরাই এবং কোরিয়ান ইপিজেড পরিদর্শন করবেন, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগের দৃশ্যপট সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে।

এছাড়াও, একই দিনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় একটি স্টার্টআপ-কেন্দ্রিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বিএসইজেড) পরিদর্শন করবেন এবং তারপরে সন্ধ্যায় একটি নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রদূত, নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়িক নির্বাহীদের সঙ্গে মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

দিনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে যুব উদ্যোক্তা প্রদর্শনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক একটি ব্রেকআউট অধিবেশন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরবে।

১০ এপ্রিল, একাধিক ব্রেকআউট অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্রগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেমন ডিজিটাল অর্থনীতি (সিটি এনএ এবং ইউএনডিপির নেতৃত্বে), টেক্সটাইল (এইচএসবিসি এবং বিজিএমইএ), কৃষি ও কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ (ডাচ দূতাবাস এবং এলসিপি), এবং স্বাস্থ্যসেবা (ইন্সপাইরা, ইবিএল এবং সাজিদা ফাউন্ডেশন)।

ওইদিন একটি ম্যাচমেকিং অধিবেশন এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগের সর্বোত্তম অনুশীলনের উপর একটি গোলটেবিল আলোচনাও থাকবে।

বাসস

অর্থনীতি

বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শরীফা খান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আবদুর রহমান খানের […]

বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক আবদুর রহমান খান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:১১

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব শরীফা খান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আবদুর রহমান খানের নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলের অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন। ঋণ, অনুদান, উন্নয়ন প্রকল্প, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেন তিনি। অন্যদিকে বিকল্প নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালকের অনুপস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালন করেন এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে সহায়তা করেন।

অর্থনীতি

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালু, রাত থেকেই বাড়বে গ্যাস সরবরাহ

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু হয়েছে। এতে করে মধ্যরাত নাগাদ এই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এলএনজিবাহী একটি কার্গো আজ শনিবার দুপুরের দিকে মহেশখালী সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানান হয়, বিকেল ৪টা নাগাদ এলএনজি থেকে সরবরাহ ঘণ্টায় ৬৮৬ […]

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল চালু, রাত থেকেই বাড়বে গ্যাস সরবরাহ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৩

প্রায় এক মাসের ভোগান্তির পর সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালু হয়েছে। এতে করে মধ্যরাত নাগাদ এই কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এলএনজিবাহী একটি কার্গো আজ শনিবার দুপুরের দিকে মহেশখালী সাগর উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়।

পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে জানান হয়, বিকেল ৪টা নাগাদ এলএনজি থেকে সরবরাহ ঘণ্টায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে; দুপুর ১২টার দিকে সরবরাহ ছিল ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেলে এলএনজিসহ গ্যাসের মোট সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশে দৈনিক ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও নিয়মিত ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তবে গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লেগে গেলে সরবরাহ কমতে থাকে।

গত এক মাসে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুইটি টার্মিনালে বারবার বিপত্তি দেখা দিলে দেশে একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন কমে গিয়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩৭৬৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখতে হয়েছিল।রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, দুপুর ২টার দিকে এক্সিলারেটের এফএসআরইউর কাছে একটি এলএনজি কার্গো এসে পোঁছায়। ৭ ঘণ্টা পর আনলোড শুরু হবে।

এ দিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে আছে সারা দেশের শিল্প কারখানা। নতুন করে গ্যাস আসার খবরে ফের উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করছেন শিল্প মালিকেরা। তবে যেসব এলাকায় গ্যাস নেই সেখানে গ্যাস পৌঁছাতে দুই থেকে তিন দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিতরণ সংস্থা তিতাস।

অর্থনীতি

২ বছরে পোশাক খাতে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে: বিজিএমইএ সভাপতি

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিজিএমইএর মধ্যে আজ মঙ্গলবার […]

২ বছরে পোশাক খাতে ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে: বিজিএমইএ সভাপতি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪৬

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতে গত দুই বছরে বিভিন্ন কারণে শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা)’ আয়োজন উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বিজিএমইএর মধ্যে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মাহমুদ হাসান খান।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, শিল্পে নিয়মিত কিছু কারখানা বন্ধ হয়, আবার নতুন কারখানাও চালু হয়- এটি একটি স্বাভাবিক ও চলমান প্রক্রিয়া। তবে শিল্পের প্রকৃত অগ্রগতি মূল্যায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান বাড়ছে নাকি কমছে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সম্প্রতি প্রায় ১৩৯টি নতুন কারখানা শিল্পে যুক্ত হয়েছে। এটি কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়। তবে গত দুই বছরে যেসব কারখানা বন্ধ হয়েছে, সেগুলোর কারণে প্রায় ৪০ হাজার কর্মসংস্থান কমে গেছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়েছে।

‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি, দেশের নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দক্ষতার ঘাটতি এবং ব্যাংকগুলোর হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন— সব মিলিয়েই কিছু কারখানা সংকটে পড়েছে’-উল্লেখ করেন তিনি।

ইতিবাচক দিক তুলে ধরে মাহমুদ হাসান খান বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হলেও নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এরই মধ্যে অন্য কারখানায় যোগ দিয়েছেন। কেউ দেশের বাইরে চাকরি নিয়েছেন, আবার কেউ অন্য পেশায় চলে গেছেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে।তিনি বলেন, সরকার জানিয়েছে, আগামী ৮ বা ৯ আগস্ট থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে। এ সংকটে আর্থিক ক্ষতি তো হয়েছেই, তবে তার চেয়েও বড় উদ্বেগ হলো— আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা যেন ক্ষুণ্ন না হয়।

এ কারণে বাংলাদেশে কার্যরত আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সংগঠন বায়ার্স ফোরামের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জানানো, তাদের প্রত্যাশা বোঝা এবং কীভাবে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

জুলাই মাসে রপ্তানি কিছুটা কমেছে বলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কারণ চলতি বছরের জুলাইয়ের রপ্তানি তুলনা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের সঙ্গে, যা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রপ্তানির মাস ছিল।