শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

জবিতে গাঁজা সেবন ও সাংবাদিকদের হুমকি, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রক্টরের

রোকুনুজ্জামান, প্রতিনিধি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা উদীচীর কক্ষে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। গত কয়েক মাস ধরে সংগঠনের কক্ষে চলমান কথিত মাদক সেবনের অসংখ্য অভিযোগ বারবার প্রক্টরিয়াল বডির কাছে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৪০

রোকুনুজ্জামান, প্রতিনিধি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা উদীচীর কক্ষে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

গত কয়েক মাস ধরে সংগঠনের কক্ষে চলমান কথিত মাদক সেবনের অসংখ্য অভিযোগ বারবার প্রক্টরিয়াল বডির কাছে পৌঁছালেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১৬ নভেম্বর) প্রক্টর বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; বরং বহু দিন ধরেই উদীচীর কক্ষকে কয়েকজন সদস্য ও বহিরাগতরা নিয়মিত মাদক সেবনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত ছিল। ফলে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে কক্ষটিকে একটি অপরাধপ্রবণ জায়গা হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর (শুক্রবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের চতুর্থ তলায় প্রেসক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রম চলার সময় হঠাৎ তীব্র গাঁজার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিকরা বিষয়টি যাচাই করতে নম্রভাবে পাশের উদীচী জবি শাখার কক্ষে গেলে দেখতে পান জানালার পাশে সদ্য ব্যবহৃত গাজার ছাই পড়ে আছে এবং ওই স্থান থেকেই তীব্র গন্ধ বের হচ্ছে।

ঘটনার সময় কক্ষে উপস্থিত থাকলেও নাট্যকলা বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী শোভন প্রথমে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। এরপর একই ব্যাচের মনন মোস্তাকিন কক্ষ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের ওপর উত্তেজিত আচরণ দেখাতে থাকেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মনন মোস্তাকিন প্রকাশ্যেই গাঁজা সেবনের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমি গাজা খাই, ভিসি ভবনের সামনে চল। আমি মাইকিং করে বলবো আমি গাঁজা খাই—যা করার কর।” তার এই আচরণকে সাংবাদিকরা ভয়ভীতি, উস্কানি এবং প্রত্যক্ষ অপমান হিসেবে দেখেছেন।

এরপর সৌমিক বোস, রুদ্ধসহ আরও কয়েকজন উদীচী সদস্য এবং দুই নারী সদস্যও সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশোভন অঙ্গভঙ্গি ও হুমকি প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিকরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাঁদের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়।

পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবহিত করলে তিনি সহকারী প্রক্টরকে ঘটনাস্থলে পাঠান। সহকারী প্রক্টর উপস্থিত হলে উদীচীর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমরিন জাহান অমি স্বীকার করেন যে সংগঠনের কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়ে আসছে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসব ঘটনা একাধিকবার প্রত্যক্ষ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে সংগঠনের কিছু সদস্য ছাড়াও কয়েকজন বহিরাগত নিয়মিতভাবে জড়িত। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অতীতেও উদীচীর কক্ষে সংগঠনের সদস্যদের হাতে-নাতে আটক করার ঘটনা প্রক্টরিয়াল বডির রেকর্ডে রয়েছে—যা কক্ষটিকে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ বহন করে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ১৫ নভেম্বর (শনিবার) একাধিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে টিএসসির পাশে চায়ের দোকানে প্রেসক্লাবের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক ইউছুব ওসমান অবস্থানকালে বামধারার সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ফেলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার সভাপতি ইভান তাহসিবের নেতৃত্বে ১৫–২০ জন নেতাকর্মী সাংবাদিকদের চারদিক থেকে ঘিরে মব তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় সংবাদ কেন প্রকাশ করা হয়েছে জানতে উচ্চবাচ্য, ভয়ভীতি প্রদর্শন, উস্কানিমূলক মন্তব্য ও “দেখে নেওয়া হবে” ধরনের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মনন মোস্তাকিন একজন সাংবাদিককে কয়েকবার উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি একজন খারাপ মানুষ, ভালো মানুষ হন”—যা স্পষ্টভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা। সাংবাদিকরা শান্ত থেকে পেশাগত ব্যাখ্যা দিলেও নেতাকর্মীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। অভিযোগপত্রে এটিকে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, শারীরিক নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, উদীচী কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতেই সাংবাদিকদের ভয়ভীতি, হুমকি এবং সংগঠিতভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি, আইনি কাঠামো এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

জবি প্রেসক্লাব অভিযোগপত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—১৪ নভেম্বর সাংবাদিকদের ওপর হুমকি ও অশোভন আচরণে জড়িত মনন মোস্তাকিন, সৌমিক বোস, রুদ্র এবং নারী সদস্যদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাস্তিমূলক বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ; ১৫ নভেম্বর টিএসসিতে সাংবাদিকদের ঘিরে ধরার ঘটনায় ইভান তাহসিবসহ ১৫–২০ জনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা;

উদীচীর কক্ষে চলমান মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত; তদন্তকালীন সময় কক্ষটি সিলগালা; সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী নির্দেশনা প্রদান; এবং অবকাশ ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে দ্রুত সিসিটিভি স্থাপন।

এদিকে, গাঁজা সেবন ও সাংবাদিক হেনস্তার সংবাদ প্রকাশের জেরে উদীচীর পক্ষ থেকে প্রক্টর অফিসে একটি পাল্টা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, “আমরা দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ইমরান হুসাইন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।