বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের তুলনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনুভা জাবিন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাসনুভা জাবিন বলেন, বর্তমান সরকার প্রচলিত রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসেনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের জীবন ও রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দলীয় নির্বাচনি ইশতেহারের চেয়ে জুলাইয়ের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতিই বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা।
তিনি বলেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের কথা বললেই কেউ কেউ এটিকে ‘চেতনার ব্যবসা’ বলে পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি হলো, গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে কতটা উদ্যোগী হয়েছে, সেটিই মূল প্রশ্ন। এ জায়গায় তিনি ‘চরম হতাশা’ প্রকাশ করেন।
তাসনুভা বলেন, বিভিন্ন ধরনের কার্ড চালু, খাল খননসহ সরকারের কিছু উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তবে যখন মানুষ রান্নার জন্য গ্যাস পাচ্ছে না, বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় ও পণ্যের দাম বাড়ছে, তখন এসব কর্মসূচির গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে গৌণ হয়ে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, মানবাধিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা তাকে হতাশ করেছে।
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বরাদ্দ বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা নির্ধারণের পরিবর্তে সরকার একদিকে গ্যাস আমদানিনির্ভরতা বাড়াচ্ছে এবং অন্যদিকে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাসনুভার ভাষ্য, জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানে সময় প্রয়োজন—এটা সবাই বোঝে। কিন্তু সংকটের সময়ে জনগণকে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও আশ্বাস না দিয়ে বিভিন্ন কার্ড বিতরণের মতো উদ্যোগকে সরকারের ছয় মাসের সাফল্য পরিমাপের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখা যায় না।
পোস্টের শেষ দিকে তিনি সরকারকে পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মাত্র ছয় মাস গেছে, আপনারা প্ল্যান পরিবর্তন করেন।’