বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুমকীতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ঘরহীন, বরাদ্দ গেল স্বচ্ছলদের হাতে

রাব্বিকুল ইসলাম ,দুমকী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছলদের অস্বচ্ছল দেখিয়ে আবাসনের বরাদ্দ নেওয়া হয‎২০২২ সালের ৩১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারের অনুকূলে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ অক্টোবর ২০২৫, ২০:৪১

রাব্বিকুল ইসলাম ,দুমকী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছলদের অস্বচ্ছল দেখিয়ে আবাসনের বরাদ্দ নেওয়া হয‎২০২২ সালের ৩১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারের অনুকূলে আবাসন বরাদ্দের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুমকী উপজেলার ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত ‎প্রথম ধাপে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তালিকার ১–৬ ক্রমিকের মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের (৩য় পর্যায়) ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাদ পড়া ওই ৬ জন মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে বরাদ্দ আসে।

এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দরপত্র আহ্বান করেন এবং উপজেলার মুরাদিয়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তারিক ব্রাদার্সকে কাজের দায়িত‎প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৪ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২৪ সালের ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারালে প্রকল্পে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দ‎পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ঘর পেয়েছেন কি না তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নির্দেশনার পর স্থানীয় একটি মুক্তিযোদ্ধা সিন্ডিকেট পূর্বের তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নতুন করে একটি মনগড়া তালিকা‎এর ফলেই দেখা দেয় অনিয়ম— ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিবেদনে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বচ্ছল এবং অস্বচ্ছলদের স্বচ্ছল দেখানো হয়।

ওই তালিকায় দুইজন সরকারি কর্মকর্তা ও দুইজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়ে‎এর জেরে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঠিকাদার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে ওই ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।‎এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পলি করের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি উল্লিখিত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ–সামাজিক অবস্থা পুনঃযাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তাকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল ক‎যাদের ‘অস্বচ্ছল’ দেখানো হয়েছে‎ তালিকার ১ নম্বরে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমান আকন— তাঁর দুইটি বাস ও গাড়ি রয়েছে; সেনানিবাস কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে থাকা ১ একর জমি ৩ কোটি টাকায় অধিগ্রহণ করেছে‎৩ নম্বরে সুলতান হাওলাদার, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক; চার ছেলে ও দুই মেয়ে সবাই কর্মরত।

‎৫ নম্বরে খন্দকার আবদুর রহিম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী।‎৬ নম্বরে রাজা অলিউল হক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।৭ নম্বরে হোচেন আলী খান, ১ একর খাস জমি বরাদ্দ পেয়েছেন।‎৮ নম্বরে এস. এম. নূরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

‎১০ নম্বরে প্রয়াত আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান; সন্তানরা সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত‎১৫ নম্বরে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক মৃধা, সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন; মেয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যাদের ‘স্বচ্ছল’ দেখানো হয়ে‎১৩ নম্বরে আবদুল লতিফ মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী; দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী, নিজে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত, ঘর জরাজীর্ণ।‎

১৬ নম্বরে সফিজ উদ্দিন খান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; চলাচলে অক্ষম, এক ছেলে বেকার, বসবাস করেন ভাঙা টিনের ঘরে।১৭ নম্বরে টি. এম. আহমেদ, দুই স্ত্রী; এক ছেলে সরকারি চাকরিজীবী হলেও ঘরদোর অতি জীর্ণ। ‎১৮ নম্বরে প্রয়াত ডা. রাজেশ্বর হালদার, স্ত্রী বৃদ্ধ ও চলাচলে অক্ষম; ভাঙা ঘরে বসবাস, ঘরটি রশি দিয়ে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় রয়েছ‎বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ মিয়া বলেন,

‎“কিছু মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ইউএনও শাহিন মাহমুদের সাথে মিলে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। আমি জানি না কীসে স্বাক্ষর দিয়েছি।”

‎প্রয়াত রাজেশ্বর হালদারের ছেলে রমেন হালদার বলেন, “ভাঙা ঘরে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে কষ্টে আছি। ঘর পেতে তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন শুনি আমি নাকি স্বচ্ছল!‎বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিজ উদ্দিন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমার কাছেও দুই লাখ টাকা চেয়েছিল একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি বলেছি, ঘুষ দিয়ে ঘর চাই না— ভাঙা ঘরেই থাকবো।”‎কমিটির সদস্যদের বক্তব্য

‎তালিকায় স্বাক্ষর করা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম বলেন,“আমাকে বলা হয়েছিল শুধু স্বাক্ষর দিতে। আমি জানতাম না আমি কমিটির সদস্য।”‎অন্য সদস্য আ. মানান হাওলাদার গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁর মতামত পাওয়া যায়নি। ‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলী জানান,“সেই সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ইউএনও অফিসে এসে আমাদের স্বাক্ষর করতে বলেন।

সরেজমিন যাচাই তাঁরা করেছেন।‎উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন,“আমরা সরেজমিন যাচাই করিনি; মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই করেছেন, আমরা শুধু স্বাক্ষর করেছি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন,“গত বছরের ২৫ নভেম্বরের তদন্তে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।