মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুমকীতে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা ঘরহীন, বরাদ্দ গেল স্বচ্ছলদের হাতে

রাব্বিকুল ইসলাম ,দুমকী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছলদের অস্বচ্ছল দেখিয়ে আবাসনের বরাদ্দ নেওয়া হয‎২০২২ সালের ৩১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারের অনুকূলে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ অক্টোবর ২০২৫, ২০:৪১

রাব্বিকুল ইসলাম ,দুমকী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছলদের অস্বচ্ছল দেখিয়ে আবাসনের বরাদ্দ নেওয়া হয‎২০২২ সালের ৩১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পরিবারের অনুকূলে আবাসন বরাদ্দের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর মধ্যে দুমকী উপজেলার ১৮ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত ‎প্রথম ধাপে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তালিকার ১–৬ ক্রমিকের মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের (৩য় পর্যায়) ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বাদ পড়া ওই ৬ জন মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে বরাদ্দ আসে।

এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দরপত্র আহ্বান করেন এবং উপজেলার মুরাদিয়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তারিক ব্রাদার্সকে কাজের দায়িত‎প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৬ হাজার ৭৪ টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০২৪ সালের ১০ জুন প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

কিন্তু জুলাই আন্দোলনের পর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারালে প্রকল্পে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দ‎পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠিতে প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ঘর পেয়েছেন কি না তা যাচাই করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নির্দেশনার পর স্থানীয় একটি মুক্তিযোদ্ধা সিন্ডিকেট পূর্বের তালিকায় থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নতুন করে একটি মনগড়া তালিকা‎এর ফলেই দেখা দেয় অনিয়ম— ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রতিবেদনে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বচ্ছল এবং অস্বচ্ছলদের স্বচ্ছল দেখানো হয়।

ওই তালিকায় দুইজন সরকারি কর্মকর্তা ও দুইজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়ে‎এর জেরে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঠিকাদার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, “প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশে ওই ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।‎এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পলি করের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি উল্লিখিত মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ–সামাজিক অবস্থা পুনঃযাচাই করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মৎস্য কর্মকর্তাকে সদস্য করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল ক‎যাদের ‘অস্বচ্ছল’ দেখানো হয়েছে‎ তালিকার ১ নম্বরে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমান আকন— তাঁর দুইটি বাস ও গাড়ি রয়েছে; সেনানিবাস কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে থাকা ১ একর জমি ৩ কোটি টাকায় অধিগ্রহণ করেছে‎৩ নম্বরে সুলতান হাওলাদার, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক; চার ছেলে ও দুই মেয়ে সবাই কর্মরত।

‎৫ নম্বরে খন্দকার আবদুর রহিম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী।‎৬ নম্বরে রাজা অলিউল হক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।৭ নম্বরে হোচেন আলী খান, ১ একর খাস জমি বরাদ্দ পেয়েছেন।‎৮ নম্বরে এস. এম. নূরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা।

‎১০ নম্বরে প্রয়াত আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান; সন্তানরা সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত‎১৫ নম্বরে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক মৃধা, সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন; মেয়ে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক। যাদের ‘স্বচ্ছল’ দেখানো হয়ে‎১৩ নম্বরে আবদুল লতিফ মিয়া, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী; দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী, নিজে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত, ঘর জরাজীর্ণ।‎

১৬ নম্বরে সফিজ উদ্দিন খান, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা; চলাচলে অক্ষম, এক ছেলে বেকার, বসবাস করেন ভাঙা টিনের ঘরে।১৭ নম্বরে টি. এম. আহমেদ, দুই স্ত্রী; এক ছেলে সরকারি চাকরিজীবী হলেও ঘরদোর অতি জীর্ণ। ‎১৮ নম্বরে প্রয়াত ডা. রাজেশ্বর হালদার, স্ত্রী বৃদ্ধ ও চলাচলে অক্ষম; ভাঙা ঘরে বসবাস, ঘরটি রশি দিয়ে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় রয়েছ‎বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ মিয়া বলেন,

‎“কিছু মুক্তিযোদ্ধা সাবেক ইউএনও শাহিন মাহমুদের সাথে মিলে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। আমি জানি না কীসে স্বাক্ষর দিয়েছি।”

‎প্রয়াত রাজেশ্বর হালদারের ছেলে রমেন হালদার বলেন, “ভাঙা ঘরে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে কষ্টে আছি। ঘর পেতে তিন শতাংশ জমি বিক্রি করে ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এখন শুনি আমি নাকি স্বচ্ছল!‎বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিজ উদ্দিন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“আমার কাছেও দুই লাখ টাকা চেয়েছিল একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি বলেছি, ঘুষ দিয়ে ঘর চাই না— ভাঙা ঘরেই থাকবো।”‎কমিটির সদস্যদের বক্তব্য

‎তালিকায় স্বাক্ষর করা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম বলেন,“আমাকে বলা হয়েছিল শুধু স্বাক্ষর দিতে। আমি জানতাম না আমি কমিটির সদস্য।”‎অন্য সদস্য আ. মানান হাওলাদার গুরুতর অসুস্থ থাকায় তাঁর মতামত পাওয়া যায়নি। ‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলী জানান,“সেই সময় কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ইউএনও অফিসে এসে আমাদের স্বাক্ষর করতে বলেন।

সরেজমিন যাচাই তাঁরা করেছেন।‎উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন,“আমরা সরেজমিন যাচাই করিনি; মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই করেছেন, আমরা শুধু স্বাক্ষর করেছি।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন,“গত বছরের ২৫ নভেম্বরের তদন্তে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।