রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নিষিদ্ধ মাছের ‘স্বর্গদ্বার’ আমতলী পয়েন্ট প্রশাসনের ঢিলেঢালা তদারকিতে ফুলে-ফেঁপে উঠছে পাচারচক্র

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ বঙ্গোপসাগরের নিষিদ্ধ মাছ পরিবহনের নিরাপদ সড়ক আমতলী পয়েন্ট। ট্রাফিক, কোষ্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারীর কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে অনায়াসে ঢাকায় মাছ যাচ্ছে। ফলে সাগরে সরকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ হচ্ছে না। দ্রত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে ট্রাফিক, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৫ মে ২০২৫, ২২:৪৭

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বঙ্গোপসাগরের নিষিদ্ধ মাছ পরিবহনের নিরাপদ সড়ক আমতলী পয়েন্ট। ট্রাফিক, কোষ্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারীর কারনে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে অনায়াসে ঢাকায় মাছ যাচ্ছে। ফলে সাগরে সরকার মাছ শিকার নিষিদ্ধ করলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।

দ্রত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে ট্রাফিক, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারী বৃদ্ধি এবং চেক পোষ্ট বসানোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। 

জানাগেছে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন ৫৮ দিন সাগরে সকল ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন সরকার। কিন্তু সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে উপকুলীয় অঞ্চল মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা, তালতলীর অসাধু ব্যবসায়ীরা উপজেলার মৎস্য বিভাগ, কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও প্রশাসন ম্যানেজ করে জেলেদের দিয়ে সাগরে মাছ শিকার করাচ্ছেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

অসাধু ব্যবসায়ীরা কুয়াকাটা, কলাপাড়া, তালতলী ও ফকিরহাট বাস স্ট্যান্ডে ওই মাছ ডোলে করে ইসলাম, মিজান, আলিফ, অন্তরা, ইটালী, হাসান ও যমুনাসহ বিভিন্ন পরিবহন গাড়ীতে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা ও তালতলী এই তিন সড়কের মধ্যস্থান আমতলী চৌরাস্তা। ওই সকল সড়কের পরিবহনগুলো আমতলী হয়ে যেতে হয়।

আমতলী ছাড়া এ সকল পরিবহন গাড়ী ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে দাবী করেন গাড়ী চালক নজরুল ইসলাম। প্রতিদিনই এ সড়ক হয়ে বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ শিকার করা মাছ পরিবহনে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মাছ আহরনের পরিবহন গাড়ীগুলো আমতলী পয়েন্ট ত্যাগ করা শুরু করে, চলে গভীর রাত পর্যন্ত।\

ওই সময় সড়কে ট্রাফিক পুলিশ থাকার কথা থাকলেও কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তারা সড়কে থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাফিক পুলিশ ম্যানেজ করে ব্যবসায়ীরা রাতে মাছ পরিবহনের গাড়ী গুলো আমতলী অতিক্রম করছে। ফলে অনায়াসে তারা আমতলী পয়েন্ট ত্যাগ করতে পারে। তবে এমন অভিযোগ ট্রাফিক বিভাগ অস্বীকার করছেন। মাঝে মধ্যে দুই একদিন মাছসহ পরিবহনগাড়ী প্রশাসনের কব্জায় ধরা পড়লেও তা অত্যান্ত প্রতুল বলে জানান রুবেল মিয়া।

এ সড়কে মাছ পরিবহন বন্ধ করতে হলে ট্রাফিক টহল, কোষ্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও প্রশাসনকে সজাগ হতে হবে। মাছ আহরনের পরিবহন বন্ধ করতে না পারলে সাগরে মাছ শিকারও বন্ধ হবে না বলে আরো দাবী করেন তিনি।

অপর দিকে সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৩৮ দিন পেরিয়ে গেলেও আমতলী উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ তিন দিনে মাত্র তিনটি পরিবহন গাড়ী থেকে ৪১ মণ মাছ জব্দ করেছে। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের কোন তৎপরতা নেই। অভিযোগ রয়েছে তালতলীর ফকিরহাটে কোষ্টগার্ডের ক্যাম্প।

তাদের সামনের সড়কে সাগর থেকে জেলেদের শিকার করা মাছ ব্যবসায়ীরা পরিবহন গাড়ীতে তুলে দিচ্ছেন কিন্তু তারা নির্ভিকার। আরো অভিযোগ রয়েছে কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও তালতলী উপজেলা মৎস্য বিভাগ ম্যানেজ করেই জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করছেন।

অপর দিকে তালতলী অফিসের সামনেই বাস স্ট্যান্ড। তাদের নাকের ডগায় ব্যবসায়ীরা পরিবহন গাড়ীতে মাছের ডোল তুললেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রত

ত পটুয়াখালী, কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী পয়েন্টে চেকপোষ্ট বসিয়ে পরিবহন তল্লাশীর দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। 

জেলে সুলতান, রফেজ ও আবুল বাশার বলেন, ব্যবসায়ীরা মাছ শিকার করতে সাগরে পাঠায়, তাই সাগরে মাছ শিকার যাই। সাগরে কোষ্টগার্ড, নৌ-পুলিশ আমাদের মাছ শিকার করা দেখেও তো কিছুই বলে না। 

তালতলী নিদ্রাসকিনা কোষ্টগার্ড ষ্টেশনের ইনচার্জ সুজা উদ্দিন মাহমুদ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ওই ষ্টেশনের গোয়েন্দা বিভাগের হাবিবুর রহমান বলেন, তথ্য পেলে আমরা সাগরে অভিযান পরিচালনা করি।

ফকিরহাটে যে মাছ উঠছে তা সাগরের মাছ নয়, নদীর মাছ। সাগরের মাছ পরিবহন গাড়ীতে আপনাদের সামনে থেকেই নিয়ে যাচ্ছে, আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি বলতে পারবো না। ইনচার্জ সুজাউদ্দিন মাহমুদ স্যারে বলতে পারবেন। 

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মখর্তা ভিক্টর বাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।  

আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, গত মাসের আইন শৃংখলা সভায় সাগরে মাছ শিকার নিষিদ্ধের ৫৮ দিন পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী চৌরাস্তায় চেকপোষ্ট বসার অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ রাজি হয়নি। তিনি আরো বলেন, আমার দপ্তরে সেই রকম জনবল নেই, যে অমি চেক পোষ্ট বসাবো। ফলে পরিবহন আটকে মাছ জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে না।

আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, মৎস্য বিভাগ চেক পোষ্ট বসিয়ে পুলিশ চাইলেই আমি পুলিশ দিতে পারি। কিন্তু তারাতো চেক পোষ্টই বসায় না। আমি কোথায় পুলিশ পাঠাবো? পরিবহন গাড়ীর মাছ চেক করতে, তারাই চেক পোষ্ট বসাবেন।  

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান বলেন, মাছ পরিবহন বন্ধে দ্রæত চেক পোষ্ট বসানো হবে। তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে সামদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। চেক পোষ্ট বসিয়ে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। 

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।