শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

নতুন-পুরাতন বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ: ডা. শফিক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা অংশ নেন। অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম […]

নতুন-পুরাতন বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ: ডা. শফিক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ জুন ২০২৬, ১২:২১

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা অংশ নেন।

অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সকল অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে জামায়াতের লড়াই অব্যাহত থাকবে। “নতুন-পুরাতন ফ্যাসিবাদ বুঝি না, যেখানেই ফ্যাসিবাদ সেখানেই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ”—উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দল আপসহীন অবস্থানে থাকবে।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন ও সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটে জনগণ দুটি বিষয়ে ভোট দিলেও একটি ভোটের মূল্যায়ন করা হয়েছে, অন্যটি উপেক্ষা করা হয়েছে। তার ভাষায়, কোনো ভোটই অগুরুত্বপূর্ণ নয় এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষিত হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় পরিবর্তন ও মৌলিক সংস্কার চাইলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদ পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই গেছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে ৩১টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ প্রণয়ন করেছিল এবং সেই ভিত্তিতেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু জনগণের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়ায় মানুষ শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও হয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে আরও ত্যাগ স্বীকারের প্রস্তুতি রাখতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার কেউ স্বেচ্ছায় না দিলে তা আদায়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। সীমান্তে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবির পাশে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত অবস্থান প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিপুল জনসংখ্যাকে এখনো জনসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়নি। সুশিক্ষার অভাব এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে সমাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম বেড়েছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের সততা ও মানসিকতার ওপরই সমাজের উন্নয়ন নির্ভর করে।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার কারণে দেশে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ নতুন আশার সঞ্চার দেখেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সরকার জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল সহযোগিতা করবে, তবে গণবিরোধী যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংসদের ভেতরে ও বাইরে প্রতিবাদ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শাসক হয়ে উঠতে না পারে এবং জনগণের অধিকার ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিশু ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক সহিংসতার মতো ঘটনা বাড়ছে। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতার নিহত হওয়ার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মানবিক, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করবে। শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০১

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩