রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা
বরগুনার আমতলীতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিয়া সুলতানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। গভীর নলকূপ স্থাপন, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গত বুধবার (২০ মে) আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারীরা জানান, অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানা উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ–সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত এক বছরে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে কোনো সুবিধা এনে দিতে পারেননি। টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। সম্প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীরা একত্রিত হয়ে থানায় অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী মো. জসিম মিয়া বলেন, “গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেওয়ার কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এক বছর পার হয়ে গেলেও নলকূপ পাইনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা করছেন।”
রুস্তুম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগম অভিযোগ করেন, গভীর নলকূপ বসানোর আশ্বাসে তাঁদের কাছ থেকে মোট ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। এখন টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে।
পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম বলেন, ভিজিডি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাঁরা দরিদ্র মানুষ; কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন।
মাহিয়া বেগম বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ঋণ করে টাকা দিয়েছি। এখন না কার্ড পাচ্ছি, না টাকা ফেরত।”
অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানার ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, “জাকিয়া সুলতানা নামে কোনো নারী অতীতে বা বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত নন। তিনি সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত নারী বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন না। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”