রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে আমতলীর উতশিতলা নামক এলাকায় খোলা স্থানে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। পঁচা দুর্গন্ধে এলাকা পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। সড়কের চলাচলকারী মানুষ নাক চেপে যেতে হচ্ছে। দ্রুত এ ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। জানাগেছে, ১৯৯৮ সালে ২৩ আগষ্ট আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ২৭ বছরে আমতলী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ মে ২০২৫, ১৮:৫০

রাশিমুল হক রিমন, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে আমতলীর উতশিতলা নামক এলাকায় খোলা স্থানে পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে। পঁচা দুর্গন্ধে এলাকা পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। সড়কের চলাচলকারী মানুষ নাক চেপে যেতে হচ্ছে। দ্রুত এ ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জানাগেছে, ১৯৯৮ সালে ২৩ আগষ্ট আমতলী পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। গত ২৭ বছরে আমতলী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আধুনিক বর্জ ব্যবস্থাপনা ডাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ করতে পারেনি। ওই সময় থেকে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ শহরের বিভিন্ন স্থান ও নদীতে ময়লা ফেলে আসছে।

এতে শহরের পরিবেশ চরম আকারে দুষিত হয়। গত তিন মাস ধরে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলীর উতশিতলা নামক স্থানে ময়লা ফেলা শুরু করে। এতে ওই ময়লা ফেলার স্থানটি ভাগাড় পরিনত হয়েছে।

খোলা স্থানে ময়লা ফেলায় এলাকার পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। বাতাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরেছে। মানুষ নাক চেয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ মহাসড়কে প্রতিদিন অন্তত কয়েক হাজার যানবাহনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। এছাড়া ওই ভাগাড়ের চারিদিকে গ্রামাঞ্চল রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা ও যানবাহনের চলাচলকারী মানুষ দুষিত পরিবেশে জীবন যাপন করছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন মহাসড়কের পাশে খোলা স্থানে ময়লা ফেলায় বসবাস করা খুবই কষ্টকর। এতে পরিবেশ দুষিত হয়ে নানাবিধ রোগ ছড়িয়ে পরছে। দ্রুত এ ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার দাবী জানিয়েছেন তারা।

বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, সড়কের পাশে ময়লায় একাকার হয়ে আছে। মানুষ নাক চেপে চলাচল করছে। দুর্গন্ধে পরিবহন গাড়ীর জানালা ও দরজা বন্ধ রাখা হচ্ছে। গাড়ীর যাত্রীরা নাক চেপে চলাচল করছে। এছাড়াও পৌর শহরের ওয়াবদা এলাকা ও টিএনটি রোড়ে ময়লা ফেলা রাখা হয়েছে। 

স্থানীয় লিটন গাজী ও রাসেল মৃধা বলেন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় স্থাপন করায় আমরা খুবই কষ্টে আছি। ময়লার দুর্গন্ধে বাড়ীতে বসবাস করা খুবই কঠিন। দ্রুত এ ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেয়ার দাবী জানান তারা।

বাসযাত্রী জিয়া উদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা হয়েও আধুনিক বর্জ ব্যবস্থাপনা নেই। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে এলাকার পরিবেশ চরম আকারে দুষিত হচ্ছে। পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত সড়কের পাশ থেকে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

আমতলী পৌরসভার বর্জ ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাকির মৃধা বলেন, ময়লার আধুনিক বর্জ ব্যবস্থাপনা ডাম্পিং ষ্টেশন না থাকায় ময়লা মহাসড়কের পাশে রাখা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন দুর্গন্ধ রোধে ওই ময়লায় ব্লিসিং পাউডার দেয়া হয়।  

আমতলী পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ বলেন, ময়লা ফেললে দুর্গন্ধতো ছড়াবেই। ময়লা আগে নদীতে ময়লা ফেলা হতো। এখন মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ময়লার ফেলার ডাম্পিং ষ্টেশন নির্মাণ করতে হলে অন্তত ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন।

ওই পরিমান টাকা পৌরসভায় বরাদ্দ নেই। ফলে ডাম্পিং ষ্টেশন করতে পারছি না। অর্থ সংঙ্কুলান হলে আধুনিক বর্জ ব্যবস্থাপনা ডাম্পিং ষ্টেশন করা হবে। 

পরিবেশ কর্মী মোঃ হাইরাজ মাঝি বলেন, পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় এটা অত্যান্ত খারাপ। ওই সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। সকল মানুষকেই পঁচা দুর্গন্ধ বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ওই ভাগাড়ের পঁচা দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে মিশে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মানুষের শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত ময়লার ভাগাড় অপসারণের দাবী তার। 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে বায়ু বাহিত রোগ জীবানু ছড়াতে পারে। তিনি আরো বলেন, ওই স্থানে মাছি বংশ বিস্তার করে । ফলে মানুষের শরীরের সংক্রামণ রোগ হতে পারে। 

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার পৌর প্রশাসক মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, আগামীকাল পৌরসভায় সভার আয়োজন করা হয়েছে। ওই সভার আলোচনায় ময়লার ভাগাড় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।