নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মানিকপুর মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন কবরস্থানে সীমানাপ্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মানিকপুর মৌজার ওই জায়গাটি উত্তরাধিকার সূত্রে তামিম মিয়ার মালিকানাধীন। পূর্বকাল থেকেই সেখানে গ্রামের বিভিন্ন মানুষের মরদেহ দাফন করা হয়ে আসছে। কবরস্থানের তিন দিকের কিছু অংশ ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি জায়গার মালিকের সম্মতিতে ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকির হোসেনের সহযোগিতায় স্থানীয়দের উদ্যোগে কবরস্থানটি সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বাচ্চু মিয়ার ছেলে মাহের হোসেন মাজুসহ কয়েকজন ব্যক্তি নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং প্রবাসী জাকির হোসেনকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।এলাকাবাসী জানান, বুরহানপুর গ্রামে জাকির হোসেনের নিজস্ব পারিবারিক কবরস্থান থাকা সত্ত্বেও মানিকপুর মৌজার এই কবরস্থানটি তিনি সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সংরক্ষণ ও সুরক্ষার উদ্যোগ নিয়েছেন। আশপাশের যেকোনো গ্রামের মানুষ এখানে মরদেহ দাফন করতে পারেন এবং এতে মালিকপক্ষের কোনো বাধা নেই বলেও তারা জানান।স্থানীয় বাসিন্দা জিকু মিয়া বলেন, “এই কবরস্থানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। আশপাশের যেকোনো মানুষ এখানে কবর দিতে পারেন।
কবরস্থানের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই অর্থ ব্যয় করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। খোলা থাকায় অনেক সময় গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী কবরস্থানে ঢুকে পড়ে। এতে কবরস্থানের পরিবেশ ও পবিত্রতা নষ্ট হয়।”প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন বলেন, “এটি বৈধ মালিকানাধীন জায়গা। গ্রামের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখানে পাকা দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ আমরা দেখি না।”
এলাকাবাসী আরও জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। বুরহানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য মাঠে মাটি ভরাট, শিশুদের খেলাধুলার সামগ্রী প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে প্রবাসী জাকির হোসেন বলেন, “আমি ও আমার পরিবার গ্রামের মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে সবসময় সহযোগিতার চেষ্টা করি। বুরহানপুর গ্রামে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানসহ বড় জায়গাজুড়ে কবরস্থান রয়েছে। এরপরও মানিকপুর মৌজার এই কবরস্থানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
কবরস্থানটি সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য আমি নিজেও সহযোগিতা করছি এবং অন্য যারা সহযোগিতা করছেন, তাদেরও স্বাগত জানাই। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এখানে বিরোধ সৃষ্টি করতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই।”
এলাকাবাসীর দাবি, কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সাধারণ মানুষের দাফন-কাফনের সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।