শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পটুয়াখালীতে বাণিজ্যিকভাবে আগাম জাতের তরমুজের বাম্পার ফলন

বর্তমান মৌসুমের রসালো ও মিষ্টি ফলের মধ্যে পরিচিত একটি ফল তরমুজ। বাণিজ্যিকভাবে লাভবানের লক্ষে আগাম জাতের তরমুজের আবাদ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি করার জন্য কৃষক ন্যায্য মূল্যে বিক্রির প্রত্যাশায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন। নদী, খাল আর অধিক চর নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী জেলা। উপকূল বেষ্টিত এ জেলাটি তরমুজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০২৫, ২৩:২০

বর্তমান মৌসুমের রসালো ও মিষ্টি ফলের মধ্যে পরিচিত একটি ফল তরমুজ। বাণিজ্যিকভাবে লাভবানের লক্ষে আগাম জাতের তরমুজের আবাদ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। রমজানকে কেন্দ্র করে বাড়তি করার জন্য কৃষক ন্যায্য মূল্যে বিক্রির প্রত্যাশায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন।

নদী, খাল আর অধিক চর নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী জেলা। উপকূল বেষ্টিত এ জেলাটি তরমুজ চাষের জন্যে এক উর্বর এবং উপযুক্ত স্থল। তাই তরমুজের শহর হিসেবে দিন দিন পরিচিতি লাভ করে চলেছে পটুয়াখালী। উপযুক্ত স্থান ও অধিক ফলন হওয়ায় প্রতিনিয়ত তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন এ জেলার কৃষকরা। জেলার নৌ ও স্থল পথে বিক্রয়ের জন্য তরমুজ নিয়ে কৃষক ছুটছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

গ্রেট ওয়ান, বিগ ফ্যামেলি, আনন্দ, আনন্দ সুপার, সুইট ফ্যামিলি, লাকী ড্রাগন, এশিয়ান-৩ ও ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে এ জেলায়। চরাঞ্চলে তরমুজের ক্ষেতে রোদকে উপেক্ষা করে কৃষক তরমুজের আগাছা ও পোকা দমনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাংলাদশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফরিয়ারা এসে ছুটছেন তরমুজ চাষীদের ক্ষেতে।

একটু বেশি লাভের আশায় গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকরা আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। অনেক তরমুজ চাষিরা রমজানের প্রথম থেকেই তাদের উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন। তাই বাজারে তরমুজ তুলতে অনেকেই এখন ব্যস্ত হয়ে পরেছে। গলাচিপার সবচেয়ে বড় তরমুজ ঘাট আমখোলা মুশুরীকাঠির ঘাটটি।

জেলার অধিকাংশ তরমুজ সরবরাহের লক্ষে আমখোলা থেকে হরিদেপুর পর্যন্ত করা হয়েছে সাতটি ঘাট। গলাচিপার বিভিন্ন চর থেকে তরমুজ চাষী ব্যাপারীরা ট্রলারে করে তরমুজ নিয়ে আসেন ঘাটগুলোতে। মুশুরিকাঠি থেকে ট্রাকের আকারের উপর ভাড়া নিধারিত হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। প্রায় ১০০০ থেকে ১৩০০ মৌসুমি শ্রমিক দিন রাত কাজ করেন এই ঘাটে।

ট্রলার থেকে ট্রাকে তরমুজ সাজাচ্ছে শ্রমিকরা। তরমুজ ঘাটকে কেন্দ্র করে মৌসুমি দোকানও জমে উঠেছে। প্রতিদিন প্রায় শতশত তরমুজের ট্রাক যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়া মুশুরিকাঠি থেকে হরিদেপুর ঘাটেও লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি ট্রাক। এর ফলে যানজটে পরতে হচ্ছে এম্বুলেন্স সহ যাত্রী সাধারণদের। 

গলাচিপা উপকূলের চরের তরমুজ চাষি মোঃ খোকন (৪৭) জানান, পাঁচ (০৫) বছর তরমুজ চাষ করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তার কোনো লস হয়নি। এ বছরও তিনি ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তার ৮৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন এ বছর দাম ভালো পাওয়া গেলে প্রতি বিঘা জমিতে দের থেকে দুই লক্ষ টাকা বিক্রি হবে। বিগ ফ্যামিলি, সুইট ফ্যামিলি, লাকী ড্রাগন, এশিয়ান-৩ ও ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

কৃষক জহিরুল ইসলাম(৫৫) বলেন, সাত (০৭) বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। সার ঔষধ ঠিক মত পাওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হলেও এক অজানা রোগের কারনে গাছগুলো মরে গিয়ে ফল নষ্ট হয়েছে এবং এমটা এখানে শুধু আমার জমির তরমুজেই হয়েছে। 

কৃষক কামাল হোসেন (৩৬) জানান, আমি আগাম জাতের তরমুজ চাষ করিনি কারন একটু দেরিতে বিক্রি করলে ভালো দাম পাবো। তবে স্যার কীটনাশক দাম একটু বেশি। কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে ন্যায্য মুল্য এ বছর সার কীটনাশক পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ফুল প্রজনন করতে হয়নি। এটা একটা ভালো দিক আর যারা বর্ষায় জমিতে একটি চাষ দিয়ে রাখছেন তাদের ফসল ভালো হয়েছে রোগ বালাই কম। 

কৃষক বেল্লাল প্যাদা(৩০) বলেন, কৃষি বিভাগের লোকজন তরমুজ চাষীদের কাছে কম আসে ডাকলে আসে। এসে ঔষধ লিখে দিয়ে চলে জায়। এর বেশি তারা খোজ রাখেন না।

রাঙ্গাবালী ছোটবাইশদিয়ার চাষি মোঃ জসিম (৩৫) জানান, আট বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ২৭০০ পিছ তরমুজ কেটেছেন। ভালো দাম পাবার আশায় ঢাকা নিয়ে যাচ্ছেন। 

একজন ব্যাপারী রাজু আহম্মেদ (৪৮) বলেন, ঢাকা থেকে তরমুজ কিনতে চর কাজলে এসেছেন। ক্ষেত থাকে ঢাকা পর্যন্ত তরমুজ প্রতি খরচ হয় ৩২-৩৫ টাকা। আগাম জাতের তরমুজ বেশি আশায় বাজার একটু কমে গেছে। তবে এই তরমুজের জেলায় কোথাও কোনো চাঁদা দিতে হয়নি। এটাই তার কাছে ভালো লাগার বিষয়।

ঘাট পরিচালক মোঃ নাসির গাজী বলেন, প্রতিদিন এখানে প্রায় ১০০০-১৩০০ শ্রমিক কাজ করেন। প্রতি দিন বিভিন্ন চর থেকে তরমুজ নিয়ে চাষী ব্যাপারীরা এখানে আসে ট্রলারে করে। ট্রলার থেকে ট্রাকে তরমুজ ভরে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাট-বাজার মোকামে চলে যায়।

ট্রলারের মাঝী কাশেম খা জানান, তরমুজ নিয়ে আসছেন চর বিশ্বাস থেকে তিনি খুবই ব্যস্ত, তরমুজ নামিয়ে দিয়ে আবার ছুটবেন অন্য তরমুজ চাষী তাকে ফোনে তাড়া দিচ্ছে। একটুও সময় নেই তার কথা বলার। 

ট্রাক এর এজেন্সির একজন মনু জোমাদ্দার (৫৬) বলেন, কিছু ঝিগাইবেন আমাগো কথা নিবেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় এখানের সাতটি (০৭) ঘাটে প্রতিদিন কত ট্টাক তরমুজ লোড হচ্ছে। তিনি জানান প্রায় ৩৮০-৪৫০ ট্রাক তরমুজ শুধু এখান থেকেই যাচ্ছে। পুরো জেলা থেকে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ তরমুজ এর ট্রাক যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। 

ভাসমান মৌসুমি দোকান মোসামাৎ আকলিমা বেগম (৩৬) বলেন, ছেলে স্বামী নিয়ে ভাতের হোটেল খুলে বসেছি বিক্রিও ভালো। প্রতিদিন ২০-২৫ কেজি চালের ভাত বিক্রি হচ্ছে। এরকম কোহিনুর (৪০) সেফালি (৪৩) সবারই ভাতের হোটেল, চায়ের দোকান থেকে হরেক রকমের দোকান নিয়ে বসেছেন এই ঘাট গুলোতে। ঘাট থেকে হাট কয়েক হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এই তরমুজের মৌসুমে।

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপপরিচালক, জেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে তবে চলতি বছর ২৮হাজার ৫০০হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে যা গত বছর এর তুলনায় ৫ হাজার হেক্টর বেশি। কৃষক গ্রেট ওয়ান, বিগ ফ্যামেলি, আনন্দ, আনন্দ সুপার জাতের তরমুজ বেশি চাষ করেছেন। বর্তমান তরমুজ কর্তন চলছে। চাষি যথাসময়ে স্যার কীটনাশক পেয়েছেন ফলন ভালো জলবায়ুও ভালো।

গত বছর (০২) হাজার কোটি টাকা হয়েছে এবছর (০৩) হাজার কোটি টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় মোবাইল টিমের মাধ্যমে আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। যাতে কৃষক দালাল পাইকারের প্রতারণার শিকার না হয়। জেলা পুলিশ সুপার মহদোয় পুরো জেলার কোথাও কোনো বাঁধা বা চাষি হয়রানি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশের সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। তরমুজ একটি লাভ জনক ফসল এখানে বিনিয়োগ একটু বেশি করতে হয় তবে লাভও ভালো। 

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও গাছে রোগবালাই আক্রমণ কম হওয়ায় ফলনও ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে তরমুজ চাষিরা।

 তরমুজ চাষে বেশি বিনিয়োগ করতে পারলে লাভের পরিমানও বেশি থাকে। তাই সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংক থেকে অর্থের যোগান পেলে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করতে পারতো এমনটাই জানিয়েছেন এ উপকূলের কৃষকগণ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।