মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সৌদি আরবে পাঁচ মাস আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা

রাশিমুল হক রিমন আমতলী প্রতিনিধি: দুই ভাই সাইদুল গাজী ও মামুন হাওলাদারকে দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সদস্যরা সৌদি আরবে পাঁচ মাস আটকে দের লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দালাল চক্রের খপ্পরে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা তারা। সৌদি আরবের জেল হাজত থেকে সাইদুল মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলেও অপর ভাই মামুন এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। […]

নিউজ ডেস্ক

৩১ জানুয়ারী ২০২৫, ২২:৩৮

রাশিমুল হক রিমন আমতলী প্রতিনিধি:

দুই ভাই সাইদুল গাজী ও মামুন হাওলাদারকে দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সদস্যরা সৌদি আরবে পাঁচ মাস আটকে দের লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দালাল চক্রের খপ্পরে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা তারা। সৌদি আরবের জেল হাজত থেকে সাইদুল মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরলেও অপর ভাই মামুন এখনও পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এমন অভিযোগ করেন মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা নির্যাতিত সাইদুর রহমান গাজী। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে দালাল রুবেল হাওলাদার পাঁচ লক্ষ টাকার ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছে বলে আরো অভিযোগ সাইদুল গাজীর। ঘটনা ঘটেছে আমতলী উপজেলার লোচা গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে। 

জানাগেছে, উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম আমতলী গ্রামের আব্দুল হাই গাজীর ছেলে সাইদুল গাজী ও তার ফুফাতো ভাই মামুন হাওলাদারকে দালাল রুবেল হাওলাদার আট লক্ষ টাকা চুক্তিতে কোম্পানীর ভিসায় সৌদি আরবে পাঠান। ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল জেদ্দা বিমান বন্দরে নামেন দুই ভাই। এরপর দালাল চক্রের সদস্য ফুয়াদ তাদের একটি বদ্ধ ঘরে আটকে রাখেন।

ওইস্থানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এমন অভিযোগ সাইদুল গাজীর। চার দিন পরে দালাল চক্রের আরেক সদস্য মনির এসে তাদের জেদ্দায় মরুভুমির মধ্যে একটি বন্ধ মুরগীর ফার্মে নিয়ে যায়। ওই স্থানে তাদের ৫ মাস ১০ দিন আটকে রাখে তারা। দালাল রুবেলের নির্দেশে চক্রের সদস্যরা তাদের ওপর অমানষিক নির্যাতন চালায় এবং দের লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করেন।

নির্যাতন সইনে না পেরে সাইদুল ও মামুন দুই ভাই পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। কিন্তু দালাল চক্রের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সাইদুল অভিযোগ করেন দালাল রুবেলের নির্দেশে মনির তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ হিসেবে দের লক্ষ টাকা দাবী করেন। নিরুপায় হয়ে দের লক্ষ টাকা দেয় সাইদুলের পরিবার। এরপর দালাল রুবেল মেয়াদ উত্তীর্ণ আকামা দিয়ে দুই ভাইকে ছেড়ে দেয়। ওই আকামা নিয়ে পালিয়ে বেড়ায় তারা। এ ঘটনা নিয়ে দালাল রুবেলের সঙ্গে সাইদুলের কথা কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্দ হয় রুবেল।

পরে দালাল রুবেল ও তার সহযোগীরা গত বছর ১৪ ডিসেম্বর সৌদি পুলিশে সাইদুলকে ধরিয়ে দেয়। ১২ দিন কারাবাস শেষে গত বছর ২৭ ডিসেম্বর সৌদি পুলিশ তাকে মুক্তি দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। অপর দিকে সাইদুলের ফুফাতো ভাই মামুন হাওলাদার সৌদি আরবে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পরিবারের কাছে তার কোন হদিস নেই এমন অভিযোগ মামুনের বাবা মজিবুর রহমান হাওলাদারের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাইদুল গাজী ও দালাল রুবেল হাওলাদারের মধ্যে এ নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে দালাল রুবেল হাওলাদার সাইদুল গাজীর বিরুদ্ধে পাঁচ লক্ষ টাকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে আমতলী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। 

সৌদি আরবে নির্যাতনের স্বীকার সাইদুল গাজী কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, আমার ও আমার ভাইয়ের জীবনটাকে দালাল রুবেল শেষ করে দিয়েছি। আমিতো জেল খেটে দেশে ফিরেছি কিন্তু আমার ভাই কোথায় আছে তা আল্লাই জানে? তিনি আরো বলেন, দালাল রুবেল হাওলাদার কোম্পানীর ভিসা দেয়ার কথা বলে আমাকে ও আমার ফুফাতো ভাইকে সৌদি আরবে পাঠান। সৌদি নিয়ে দুই দালালের কাছে আমাদের বিক্রি করে দেয়।

দালাল চক্র আমাদের দুই ভাইকে ৫ মাস ১০ দিন আটকে রেখে নির্যাতন শেষে দের লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে। পরে আমাকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, দালাল রুবেল আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন আবার আমাকে হয়নারী করতে থানায় পাঁচ লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় দালাল রুবেল হাওলাদার ও তার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবী করছি। 

প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুচ মল্লিক, নাশির উদ্দিন হাওলাদার, সুলতান গাজী ও আব্দুল হক মৃধা বলেন, দালাল রুবেল হাওলাদার আট লক্ষ টাকা চুক্তিতে সাইদুল গাজী ও তার ফুফাতো ভাই মামুনকে সৌদি আরব পাঠিয়েছে। ওই স্থানে দালাল রুবেলের সদস্যরা তাদের পাঁচ মাস আটকে রখে নির্যাতন করেছে। এ ঘটনার নিয়ে রুবেল ও সাইদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এখন শুনতে পাচ্ছি রুবেল থানায় সাইদুল গাজীর বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে। 

দালাল রুবেল হাওলাদার দুই ভাইকে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা স্বীকার এবং নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলেন, সাইদুল গাজী লোকজন নিয়ে আমাকে মারধর শেষে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। 

আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, সৌদি আরবে নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, মারধরের একটি অভিযোগ পেয়েছিলাম। ওই বিষয়টি মিমাংশা হয়েছে। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।