রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরার পাশাপাশি এবার তুলনামূলক কম খরচের ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, নতুন এই ক্যামেরা ব্যবস্থার মাধ্যমে কম খরচে রাজধানীর আরও বেশি এলাকাকে নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন সহজ হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরাগুলো কার্যকর হলেও এগুলো স্থাপন ও পরিচালনায় ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তাই দ্রুত নজরদারির পরিধি বাড়াতে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আনিছুর রহমান বলেন, নতুন ক্যামেরাগুলোর খরচ কম হলেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্যামেরা স্থাপন করা গেলে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এআই ক্যামেরা চালুর দুই মাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরবাসীর কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। অনেকেই এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন, সিগন্যাল অনুসরণ করছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন।
তবে ঢাকার যানজটের পেছনে বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের একসঙ্গে চলাচল, অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলেছে।
পথচারীদের অসচেতনতাকেও যানজটের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, অনেক পথচারী ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষা করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার করেন, যা যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর কোন এলাকায় কখন যানজট বেশি হয় সে বিষয়ে ডিএমপির নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। সেই অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু জনবল দিয়ে নয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমেই কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব।