রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য নদী-জলাধারের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া, বন্যাপ্রবণ এলাকা ভরাট এবং দুর্বল আইন প্রয়োগকে দায়ী করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী। এ ঘটনায় তিনি রাজউক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, রাজধানী থেকে বৃষ্টির পানি নদীতে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ অনেকাংশেই বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, হাজার হাজার আবাসন প্রকল্প নির্মাণ, জলাধার ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল ভরাট এবং বেআইনি ছাড়পত্র দেওয়ার ফলে ঢাকা এখন মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতার শিকার।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, বৃষ্টি কোনো অভিশাপ নয়; বরং প্রাণ-প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃষ্টিপাত এবং নদী-জলাধারের ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসন প্রকল্প নির্মাণে রাজউক ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বেআইনিভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী সংরক্ষিত বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল, রূপগঞ্জের পূর্বাচল এবং উত্তরার কিছু অংশ ভরাট করা হয়েছে।
সাবেক এই কর্মকর্তা দাবি করেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের এনফোর্সমেন্ট টিমের দায়িত্বে থাকাকালে বালু নদী ভরাটের ঘটনায় রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে প্রতীকী পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। একই সময়ে জলাশয় ও নদী দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্পের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান, জরিমানা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিবেশ ও নদী রক্ষায় বহু আইন, বিধিমালা, প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে।
সরকারের প্রতি প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, গত দুই বছরে বুড়িগঙ্গা, বালু, শীতলক্ষ্যা ও তুরাগ নদীর দখল ও দূষণ পরিস্থিতি কিংবা সাভার-আশুলিয়ার জলাশয় ধ্বংসের চিত্র সরেজমিনে দেখতে পরিবেশ উপদেষ্টা, মন্ত্রী, সচিব বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কেউ গিয়েছেন কি না।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর মতে, নাগরিকদের আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং সরকারি সংস্থাগুলোর আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণে দেশে ‘গভর্ন্যান্স ক্রাইসিস’ ও ‘মোরালিটি ক্রাইসিস’ তৈরি হয়েছে।
তিনি জলাধার ও নদী রক্ষায় নজরদারি, মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, জরিমানা এবং প্রয়োজনে বেতন কর্তনের মতো শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান। তাঁর মতে, কার্যকর জবাবদিহি ছাড়া শাসন ও ব্যবস্থাপনার সংকট দূর করা সম্ভব নয়।