বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

অবৈধ ইটভাটা নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি

মো:ফারুক আহমেদ ঘাটাইল টাঙ্গাইল  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনের ভেতর, আবাসিক এলাকা, তিন ফসলি জমি ও বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটা নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। মালিক পক্ষ লাইসেন্স না করেই উচ্চ আদারলতে রিট করে বছরের পর বছর এসব অবৈধ ইট ভাটা পরিচালনা করে আসছে।  তারা আইন না মানায় এক দিকে বনের গাছ নিধন হচ্ছে-অপর দিকে গ্রামীন রাস্তাঘাট ভেঙে […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ জানুয়ারী ২০২৫, ২২:৫৩


মো:ফারুক আহমেদ ঘাটাইল টাঙ্গাইল
 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় বনের ভেতর, আবাসিক এলাকা, তিন ফসলি জমি ও বিদ্যালয়ের পাশে গড়ে ওঠা ইটভাটা নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। মালিক পক্ষ লাইসেন্স না করেই উচ্চ আদারলতে রিট করে বছরের পর বছর এসব অবৈধ ইট ভাটা পরিচালনা করে আসছে। 

তারা আইন না মানায় এক দিকে বনের গাছ নিধন হচ্ছে-অপর দিকে গ্রামীন রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। সেই সঙ্গে ভাটার মালিকরা জমির উর্বর মাটি ও পরিবেশ দূষণে ব্যাপকহারে ক্ষতি করলেও স্থানীয় প্রশাসন ঐ সব ইট ভাটার বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নিয়ে খোড়া অজুহাত দেখিয়ে সু কৌশলে মালিক পক্ষকে সহযোগিতা করে চলছে। 

ইট ভাটা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলায় অর্ধশতাধিক ইট ভাটা থাকলেও এ বছর ৩৮টি ভাটা ইট পূরছে। তার মধ্যে ২১টি ইট ভাটার নিবন্ধন আছে। ১৪টি ইট ভাটা চলছে শুধু হাইকোর্টের রিট করে, অবশিষ্ট ৩টি ইট ভাটা কোন আইনে চলছে তার কোন তথ্য নাই তাদের কাছে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায় ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯, ২০১৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী একটি ভাটাও স্থাপন করা হয়নি। আইনের সাথে ভাটা স্থাপনের কোন মিল নাই, তবুও মিলছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র অতি সহজেই মিলছে নিবন্ধন। 

বিধানে বলা আছে ইট প্রস্তত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী ৫ এর ধারায় বলা আছে বিশেষ কোন স্থাপনা, হাইওয়ে রাস্তা ও রেলপথ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিম্বা অনুরূপ কোন প্রতিষ্ঠান থেকে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার দূরে ইট ভাটা স্থাপন করতে হবে, ৫ (জ)তে বলা আছে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহন ব্যতিত ইট ভাটা চালু করা যাইবে না। ৪(ঙ)তে বলা আছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বানিজ্যিক এলাকায়, সিটি কর্পোরেশন, পৌর সভা বা উপজেলা সদর, কৃষি জমি ও পরিবেশ গত সংকটাপন্ন এলাকায় কোন ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে না। অথচ সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, আইনের সাথে ভাটা স্থাপনের কোন মিল নাই। যার যেমন যেখানে খুশি -স্কুল কলেজ, মসজিদ মাদ্রাসা, এবং কি ঘন বসতি এলাকায় ছোট ছোট শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। 

২০১৩ সনের ৫৯ নং আইনের ধারা ৪এর প্রতি স্থাপনে বলা আছে, লাইসেন্স ব্যতীত ইট ভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তত নিষিদ্ধ, তবুও এসব ছাড়াই চলছে। 

১২ ডিসেম্বর ধলাপাড়া বিল-জলঙ্গি বংশাই ইট ভাটা এবং রসুলপুর ইউনিয়নের লালমাটিয়া তিতাস ইট ভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ভাটার চারিপাশে গাছের স্তুুপ। বিধি অনুযায়ী কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও আইন ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল 

দেখিয়ে ভাটার মালিক বনের কাঠ দিয়ে ইট পুড়ছে। তাছাড়াও চলমান ৩৮ টি ইট ভাটার মধ্যে ১৮ টিই সংরক্ষিত বনের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ও জন বসতি পূর্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। এ ভাবে ৩৮ টি ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়ায় যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্য দিকে ফসলি জমির মাটি গভীর করে কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। যত্রতত্র ইট ভাটা গড়ে উঠায় হাইড্রলিক ও ট্রাকের চাপে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ছোট ছোট রাস্তা অল্পদিনেই ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। 

১৪ জানুয়ারী লোকেরপাড়া ইউনিয়নের লোকেরপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে ঘন বসতি, মসজিদ, মাদ্রাসা, সংলগ্ন এলাকায় পাকা রাস্তার ধারে এম, এস, টি ইট ভাটা হরহামেশায় চলছে। আইন লঙ্ঘিত করে ৫০ মিটারের মধ্যে আর, এস, এম ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। ঘন বসতি বাড়ীর পাশে ইট ভাটা গড়ে উঠায় ছোট ছোট শিশুদের নানাবিধ ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে ষাটোর্ধ বৃদ্ধ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইট ভাটার কালো ধোঁয়া কয়লার বিষাক্ত বাতাসে শিশু ও বয়োঃবৃদ্ধদের শারিরীক নানান সমস্যার সৃষ্টি করে এ ভাবে গ্রামে মধ্যে তিন ফসলি জমিতে আর,এস,এম ইটভাটা গড়ে উঠেছে। শিংগুরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে ঘন বসতি এলাকায় পাকা রাস্তার ধারে তিন ফসলি জমিতে স্বর্ণা ইট ভাটা হরহামেশায় চলছে।

সর্বোপরি লাভবান হচ্ছে ভাটার মালিক সুবিধা নিচ্ছে প্রশাসন, অপরদিকে হাতে গননা কয়েকজন বাদে প্রায় সকলেই ভোগান্তি ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেই সাথে সরকারের লোকশান হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। 

ইট ভাটায় বনের কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা ওয়াদুদুর রহমানের ভাষ্য এবিষয়ে আমি সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ও কার্যকরি ব্যাবস্থা নিচ্ছি। 

এসব বিষয়ে ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী বলেন পাহাড়ের লাল মাটি ও বনের কাঠ ইট ভাটায় না নিতে কড়া ভাষায় নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। তার পরেও কেউ আইন অমান্য করে তা হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনে আমাদের সমিতি সর্ব প্রকারের সহযোগিতা করবে। 

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন ইসলাম কে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, লাল মাটি কাটা এবং বনের কাঠ ইট ভাটায় ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব অপরাধ যার সংগঠিত করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে এসিল্যান্ডকে সম্পূর্ণ ভাবে দিক নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।