মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় কলেরার ঝুঁকি মোকাবিলায় শুরু হয়েছে ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন (ওসিভি) ক্যাম্পেইন। এ কর্মসূচির আওতায় সদর উপজেলার প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও মিরকাদিম পৌরসভায় পর্যায়ক্রমে ৯১টি টিকাদান কেন্দ্রে এক বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে গর্ভবতী নারীসহ নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই টিকা প্রযোজ্য নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা শিশুদের নিজ হাতে টিকা খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফি, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমসহ আরও অনেকে।
জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে দেশের ১৪টি উপজেলাকে চিহ্নিত করে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা। প্রথম ধাপে সারাদেশে প্রায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসের বাস্তবায়নে চলমান কর্মসূচির প্রথম রাউন্ডের টিকাদান চলবে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকা দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
মুন্সীগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম জানান, পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকার মধ্যে অন্তত ১৪ দিনের ব্যবধান রাখা হবে। নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কলেরা প্রতিরোধে এই টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কলেরা টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে গুজব প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।