জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না।’
জাদুঘরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে জুলাই জাদুঘরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র ঘুরে দেখেন তিনি।
দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে শহিদদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী ও জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন সেকশন ঘুরে দেখেন রাষ্ট্রপতি। শহিদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার সংগ্রামের স্মৃতি ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তাকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্মৃতি সংরক্ষণ ও এ ধরনের জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার ত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন তিনি।
শহিদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান রাষ্ট্রপতি।
এ সময় জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।