নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে থাকায় লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে। জেলা ৭২-৭৯ ভাগ লোডশেডিং থাকার জানিয়েছে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। যে কোন সময় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের আশঙ্কা রয়েছে। অনেকগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে সোমবার (১০ আগস্ট) নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আকরাম হোসেন জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নেত্রকোনা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নয়টি ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে জেলার১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১৫৭ মেগাওয়াট চাহিদা রয়েছে।
চিঠিতে গত তিন দিনের চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ৭ আগস্ট রাত ১টায় ১১০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৫৫ মেগাওয়াট। ৮ আগস্ট বিকাল ৫টায় ১২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ৬৩ মেগাওয়াট। আর ৯ আগস্ট রাত ১১টায় ১২৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৬০ মেগাওয়াট।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ১১কেভি ফিডার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর বিদ্যুৎ চালু হলে ফ্রিজ, পানির পাম্প, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একসঙ্গে চালু হয়। এতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা প্রায় দেড় গুণ বেড়ে যায়। ফলে গ্রাহক পর্যায়ে প্রকৃত লোডশেডিং ৭২-৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন না করার কথা উল্লেখ করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এর মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরের বরমীতে অবস্থিত বিআর পাওয়ার জেনের ১৬০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট এবং আরপিসিএল ময়মনসিংহ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কথা বলা হয়েছে।
তবে গাজীপুরের বরমীর ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদন চালু রাখা হলে নেত্রকোনা গ্রিড উপকেন্দ্রে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া সম্ভব হবে। এতে লোডশেডিংও সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, অতিমাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। মোবাইল ফোনে কর্মকর্তাদের গালিগালাজের পাশাপাশি অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বকেয়া আদায়ে অভিযান পরিচালনার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে।
এ অবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন সব অফিস ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানানো হয়।
মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক সুজন মিয়া বলেন, রাইতে- দিনে মিলায়া ৪ থাইক্যা ৫ ঘন্টা কারেন (বিদ্যুৎ) থাহে। আয়ে আর যায়। দিনের বেলা এমনে হেমনে গাছের তলে বইয়া যায়। রাইতে গরমের লাগি ঘুমাইতাম হারিনা। ছাত্র-ছাত্রীরা লেখাপড়া করতে হারতাছেনা।
আটপাড়া উপজেলার মোগলহাট্রা গ্রামের আব্দুল গনি বলেন, কারেন্ট থাকে কি না এটাই বলা যায় না। রাত দিন মিলিয়ে ৩-৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই। বাচ্চা ও বয়স্করা গরমে অসুখ হচ্ছে। কারেন্ট আসলেও ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ ও ফ্যান চলেনা।
একই অবস্থার কথা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দারাও অভিযোগ করেছেন।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আকরাম হোসেন বলেন, লোডশেডিং এর কারণে গ্রাহকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, চিঠিটি পেয়েছি। বিদ্যুতের লোডশেডিং কমিয়ে আনতে বিদ্যুতের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। গতকাল বিভাগীয় কমিশনার স্যার নেত্রকোনায় এসেছিলেন।
বিদ্যুতের বিষয়টি অবগত করেছি। জেলার বিদ্যুৎ অফিসগুলোসহ উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জন্য পুলিশকে বলেছি। ইতিমধ্যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে আসবে।