গ্যাসের কোনো সংকট না থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তাঁর দাবি, বাজার কারসাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার বরং কারসাজিকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজির দাম বাড়িয়ে তাদের পক্ষ নিয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি করে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। এর আগে গত মাসে একই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা।
তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারিতে দাম ১০৩ টাকা বাড়ানো হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুন ও জুলাইয়ে প্রায় ৪০০ টাকা কমানো হলেও আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমানোর পর এবার এক ধাক্কায় ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা দাবি করেন, এলপিজি সরবরাহের তথ্য বিশ্লেষণ করলে গ্যাসের প্রকৃত কোনো সংকটের প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। অথচ সরকার সেই কারসাজি ঠেকানোর পরিবর্তে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় এক কোটি মানুষ রান্নার কাজে এলপিজি ব্যবহার করেন। ফলে দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
গাজী আতাউর রহমান সরকারকে বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্বৃত্তদের চাহিদা অনুযায়ী দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে এলপিজির নতুন দাম কমানো এবং বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।