রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের অরাজনৈতিক ও সহশিক্ষামূলক সংগঠনে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলছে—এমন অভিযোগ তুলে এসব সংগঠনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে রাকিব এসব কথা বলেন।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংগঠন সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ঘটনার নেপথ্যে ছাত্রশিবিরের নেতারা জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, সেটি দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান ছাত্রদল সভাপতি।
ফেসবুক পোস্টে রাকিব দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটিসহ অনেক সংগঠনে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দলের পদধারীদের অন্তর্ভুক্তিতে বিধিনিষেধ রয়েছে। তার অভিযোগ, এই সুযোগে কিছু ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করছেন।
এসব সংগঠনের কমিটি গঠন, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অতীতে ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে কোন রাজনৈতিক শক্তির পক্ষে কাজ করেছেন, তা বিশ্লেষণ করলে তার বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও দাবি করেন রাকিব।
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, সহশিক্ষামূলক সংগঠনগুলোকে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং প্রকাশ্য রাজনীতিতে সম্পৃক্ত—উভয় পক্ষের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সাংবাদিক সমিতি, ডিবেটিং সোসাইটিসহ ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সব সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পোস্টে তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অরাজনৈতিক সংগঠনের আড়ালে কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে কাজ করে এবং ছাত্রদলকে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, যারা রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে অরাজনৈতিক সংগঠনগুলোয় প্রভাব বিস্তার করছে, তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও চান তিনি।
রাকিব বলেন, নিরপেক্ষতার আড়ালে কোনো ক্যাম্পাসভিত্তিক সংগঠন যদি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ‘আন্ডারগ্রাউন্ড ইউনিট’ হিসেবে কাজ করে, মব সংস্কৃতি, গালিগালাজ বা গুপ্ত রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে তাদের কর্মকাণ্ড গোপন থাকবে না।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় ও ভূমিকা প্রকাশ পাবে এবং আইন ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।