মাসুম হোসেন অন্তু (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রবিবার (০২ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট
স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। এরপর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গত বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।
আজ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে স্বাগত জানিয়ে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে তিনি সফল হবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। তাঁর সফল কর্মজীবন ও সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।”
নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনা ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব। মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
দায়িত্ব গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোকলোর বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ‘বাংলাদেশের লোকনাট্য: ঐতিহ্য ও আধুনিকতা’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে হলের প্রভোস্ট, বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফোকলোর বিষয়ক পত্রিকা ‘ঐতিহ্য’ এর সম্পাদক। বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যকে সফলভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বাংলাদেশ ফোকলোর গবেষণা কেন্দ্র’। ইতোমধ্যে তিনি মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের ফোকলোর সাধক’-এর জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কলা, মানবিক, আইন ও শিক্ষা শাখা থেকে ইউজিসি এওয়ার্ড-২০০৭ অর্জন করেন।
এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার লাভ করেন। গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান; দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর ৪৫টি মৌলিক গবেষণা প্রবন্ধ এবং ১৮টি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- বাংলাদেশের ফোকলোর সাধক (২০০৭), ফোকলোর: যোগাযোগ ও উন্নয়ন (২০১১),
বাংলার লোকনৃত্য পরিচিতি (২০১২), লোকনাট্য: দাইঘুরা গান (২০১৩), দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য: গাজীর গান (২০১৪), বাংলাদেশের পেশাজীবী ও ফোকলোর (২০১৫-যৌথ), ফোকলোর অধ্যয়ন (২০১৫), লোকশিল্প (ইউজিসি কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৬), বাংলাদেশের লোকনাট্য (২০১৯), বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লোকখাদ্য খেজুরের গুড় (২০২৪), বাঙালির উৎসব ও সম্প্রীতি (২০২৪)। সম্পাদিত গ্রন্থ:
লোকসংস্কৃতির অঙ্গনে কুষ্টিয়া (২০১৩), বাংলার জনজাতি ও সংস্কৃতি (২০১৯)। সম্পাদিত গবেষণা পত্রিকা: ঐতিহ্য, ফোকলোর বিষয়ক পত্রিকা (২০০৯), ঐতিহ্য (লোকমেলা ও লোকউৎসব সংখ্যা-২০১৩)। গল্পগ্রন্থ: ছোটদের প্রিয় ভূত মামা (২০১৪)। উপন্যাস: যুদ্ধে ফুলবানু (২০১৪) ও ট্রেনের জানালার বাইরে (২০২৫)।