রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত ট্রেজারারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ড. জাহাঙ্গীর হোসেন

মাসুম হোসেন অন্তু (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রবিবার (০২ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত ট্রেজারারের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ড. জাহাঙ্গীর হোসেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৯

মাসুম হোসেন অন্তু (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রবিবার (০২ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট

স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। এরপর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গত বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।

আজ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার এবং উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সভাপতি, দপ্তরপ্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নবনিযুক্ত ট্রেজারারকে স্বাগত জানিয়ে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে তিনি সফল হবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। তাঁর সফল কর্মজীবন ও সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।”

নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনা ও সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করব। মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

দায়িত্ব গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত ট্রেজারার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোকলোর বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ‘বাংলাদেশের লোকনাট্য: ঐতিহ্য ও আধুনিকতা’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে হলের প্রভোস্ট, বিভাগের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ফোকলোর বিষয়ক পত্রিকা ‘ঐতিহ্য’ এর সম্পাদক। বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যকে সফলভাবে তুলে ধরতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বাংলাদেশ ফোকলোর গবেষণা কেন্দ্র’। ইতোমধ্যে তিনি মৌলিক গবেষণা গ্রন্থ ‘বাংলাদেশের ফোকলোর সাধক’-এর জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের কলা, মানবিক, আইন ও শিক্ষা শাখা থেকে ইউজিসি এওয়ার্ড-২০০৭ অর্জন করেন।

এছাড়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পুরস্কারসহ অন্যান্য পুরস্কার লাভ করেন। গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান; দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য জার্নালে তাঁর ৪৫টি মৌলিক গবেষণা প্রবন্ধ এবং ১৮টি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো- বাংলাদেশের ফোকলোর সাধক (২০০৭), ফোকলোর: যোগাযোগ ও উন্নয়ন (২০১১),

বাংলার লোকনৃত্য পরিচিতি (২০১২), লোকনাট্য: দাইঘুরা গান (২০১৩), দক্ষিণবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য: গাজীর গান (২০১৪), বাংলাদেশের পেশাজীবী ও ফোকলোর (২০১৫-যৌথ), ফোকলোর অধ্যয়ন (২০১৫), লোকশিল্প (ইউজিসি কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৬), বাংলাদেশের লোকনাট্য (২০১৯), বাঙালির ঐতিহ্যবাহী লোকখাদ্য খেজুরের গুড় (২০২৪), বাঙালির উৎসব ও সম্প্রীতি (২০২৪)। সম্পাদিত গ্রন্থ:

লোকসংস্কৃতির অঙ্গনে কুষ্টিয়া (২০১৩), বাংলার জনজাতি ও সংস্কৃতি (২০১৯)। সম্পাদিত গবেষণা পত্রিকা: ঐতিহ্য, ফোকলোর বিষয়ক পত্রিকা (২০০৯), ঐতিহ্য (লোকমেলা ও লোকউৎসব সংখ্যা-২০১৩)। গল্পগ্রন্থ: ছোটদের প্রিয় ভূত মামা (২০১৪)। উপন্যাস: যুদ্ধে ফুলবানু (২০১৪) ও ট্রেনের জানালার বাইরে (২০২৫)।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।