মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিবেদকঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিক এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিক উপলক্ষ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ (২২ জুন) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী রবীন্দ্র ও নজরুল জয়ন্তী।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা আজ এমন এক মঞ্চে সমবেত হয়েছি, যা বাংলা সাহিত্যের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গকৃত।
এবার আমরা একই সাথে উদযাপন করছি কবি গুরুর ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় কবির ১২৭ তম জন্মবার্ষিকী। জয়ন্তীর এই উৎসবে সবাইকে জানাই অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
উপাচার্য মহোদয় বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন বিশ্বপ্রেম এবং আত্মার মুক্তি। অন্যদিকে, নজরুল আমাদের দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, সাম্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার শক্তি। এই দুই মহান মানসের মেলবন্ধনই বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার আলো ছড়ায় না, বরং বাঙালির এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ ও লালন করার এক পবিত্র দায়িত্ব পালন করে চলেছে।
মাননীয় উপাচার্য মহোদয় আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মাকে মুক্ত করা। যে শিক্ষা বিশ্বে বাজারে চলবে না সেটা শিক্ষা হতে পারে না। বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে সেই ধরনের মানসম্মত শিক্ষা আমাদের দিতে হবে, নিতে হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলামকে সাহিত্যিকের বাইরে সমাজ সংষ্কারক, মানবিকতা এবং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মাননীয় উপাচার্য মহোদয় বলেন, এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিন ব্যাপী ‘রবীন্দ্র মেলা’। এই মেলা কেবল কেনাবেচার স্থান নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং রবীন্দ্র-চেতনার এক অপূর্ব প্রদর্শনী।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই আয়োজন সফল রূপ পেয়েছে।
আমি বিশ্বাস করি, এই দুই দিনের অনুষ্ঠানমালা এবং মেলা আমাদের তরুণ প্রজন্মকে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের দর্শনকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করতে উদ্বুদ্ধ করবে। তাঁদের সৃষ্টিকে ধারণ করে আমরা একটি প্রগতিশীল, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাব।
এই আশাবাদ ব্যক্ত করে, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ১৪৩৩’ ও ‘রবীন্দ্র মেলা’র আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এ রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করা হয়। এরপর ১০. ৩০ মিনিটে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-১-এর গীতাঞ্জলি স্টুডিও থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতা।
এতে শাহজাদপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আকলিমা ইসলাম কুহেলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর পারভেজ সুমন এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশিক সরকার।
বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে “রবীন্দ্রনাথের কৃষি ও সময়চিন্তা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালি।
সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জাবেদ ইকবাল। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।
সেমিনার শেষে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র ও নজরুলের সৃষ্টিকে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, আগামীকাল ২৩ জুন সকাল ১০.০০টা থেকে রবীন্দ্র মেলা পুনরায় শুরু হবে। দুপুর ২.০০টায় “নজরুলের দেশপ্রেম ও বিশ্বমানব-দর্শন: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার।