শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ঘাটাইলে শিক্ষিকাকে মারধর করে শালিসী বৈঠকে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে গেলেন শিক্ষার্থী

 মো:ফারুক আহমেদ ঘাটাইল(টাঙ্গাইল)  টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের আশারয়িা চালা ডাঃ শওকত আলী ভ’ইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী দ্বারা দ্বারা শিকার হয়েছেন নাজমুন নাহার নামে (৩০) এক নারী শিক্ষক। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের নাম মেহেদি হাসান পরে শালিসী বৈঠকে ক্ষমা চেয়ে ঘটনা আড়াল কর্ াচেষ্টা করেন ঐ এলাকার মাতাব্বর । সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে ঘাটাইল উপজেলার ডা.শওকত আলী ভূইয়া উ”চ […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ জুন ২০২৬, ০১:০৫

 মো:ফারুক আহমেদ ঘাটাইল(টাঙ্গাইল) 

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের আশারয়িা চালা ডাঃ শওকত আলী ভ’ইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী দ্বারা দ্বারা শিকার হয়েছেন নাজমুন নাহার নামে (৩০) এক নারী শিক্ষক। নবম শ্রেণির ওই ছাত্রের নাম মেহেদি হাসান পরে শালিসী বৈঠকে ক্ষমা চেয়ে ঘটনা আড়াল কর্ াচেষ্টা করেন ঐ এলাকার মাতাব্বর ।

সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে ঘাটাইল উপজেলার ডা.শওকত আলী ভূইয়া উ”চ বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় বুধবার যে সালিসি বৈঠক হয় সে বিচারে সন্তুষ্ট নয় ভুক্তভোগী শিক্ষক ও এলাকাবাসি। ন্যায় বিচার না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে আর ফিরবেন না বলে জানান ওই শিক্ষক।

 শিক্ষিকা নাজমুন নাহার জানান জানান তিনি শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় তার বাড়ি। এনটিআরসিএ এর মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে নিয়োগ পেয়ে প্রায় ৬ মাস আগে উপজেলার ডা.শওকত আলী ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।

গত সোমবার দুপুরে শ্রেণিকক্ষে নবম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি হাসানের সঙ্গে শিক্ষক নাজমুন নাহারের কোনো এক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। নাজমুন নাহার জানানা এক পর্যায় তিনি মেহেদিকে একটি খাপ্পর দেন। এরপর মেহেদি রাগান্বিত হয়ে শিক্ষক নাজমুন নাহারকে কয়েকটি থাপ্পর ও ঘুষি দেয়।

এ ঘটনার সময় শ্রেনিকক্ষে শিক্ষার্থী ছাড়াও তিনজন শিক্ষক উপ¯ি’ত ছিলেন। উপস্থিত শিক্ষক আনিছুর রহমান বলেন, ঘটনার সাক্ষী আমি। অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর ওই ছাত্রকে আমি শাষণ করেছি।  এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ছাত্র এবং তার বাবা ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (দপ্তরী) সবুর মিয়ার বিচার চেয়ে ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্য ফেসবুকে।

মুহূতেই ঝড় ওঠে ফেসবুকে। স্থানীয়দের অভিযোগ মেহেদির বাবা ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী। বাবার প্রভাবে এর আগেও নানা অঘটনের জন্ম দিয়েছে এই মেহেদি। ¯’ানীয়রা আরও জানান কিছুদিন আগে মেহেদি স্কুলের ছাত্রীদের বিরক্ত করে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের এক শিক্ষক বিচার করলে মেহেদির দপ্তরী বাবা উল্টো প্রধান শিক্ষককে সাতে নিয়ে ওই শিক্ষককে শাষাণ।

এদিকে নারী শিক্ষককে মারধরের ঘটনার দুইদিন পর বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ¯’ানীয় এবং উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতাদের সমন্বয়ে এক সালিসি বৈঠকের আয়েজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সালিসে সিদ্ধান্ত হয় অভিযুক্ত ছাত্রকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে। তার বাবা সবুর মিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা পরিষদ।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের পা ধরে ক্ষমা চাইবে অভিযুক্ত ছাত্র। সালিসি বৈঠকের রায় ঘোষণা হওয়ার পর বিচারে সš‘ষ্ঠ না হয়ে ¯’ানীয়রা ভূয়া ভূয়া শ্লোগান দেওয়া শুরু করেন। এক পর্যায় উত্তেজিত জনতা জুতা নিয়ে মাতাব্বরদের সামনে চলে যায়। বর্তমানে এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ¯’ানীয়দের অভিযোগ এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে অনাকাঙ্খিত ঘটনা।  

সামাজিকভাবে যে বিচার করা হয়েছে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে স্কুল শিক্ষক খালিদ হাসান খোকন লিখেছেন ‘শিক্ষকরা যেন আমাদের সমাজের সবচেয়ে অসহায় জীব! শিক্ষককে অনায়েসে মারধর করা যায়, গারিগালাজ করা যায়, হেনস্তা করা যায়। নতুন যারা শিক্ষকতায় আসবেন তারা দয়া করে এসব মেনে নেওয়ার মানসিকতা নিয়েই আসবেন’।

কলেজ শিক্ষক বাহাদুর কবির তাঁর ফেসবুক পেইজে লিখেছেন ‘ শিক্ষিকা কতটুকু ন্যায়বিচার পেলেন? এই বিচারের মাধ্যমে শিক্ষকের মর্যাদা কখনোই কি পুনরুদ্ধার হওয়া সম্ভব? ভুক্তভোগী শিক্ষক নাজমুন নাহার বলেন, ওই ঘটনার পর আমি এক পর্যায় আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম।

যে বিচার করা হয়েছে সেখানে সুষ্ঠু বিচার আমি পাইনি। আমার একটা আত্ম-সম্মান আছে। এত কিছুর পর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি আর চাকুরি করব না। ওই বিদ্যালয়ে আর যাব না। আমি আমার নিজ জেলা শেরপুরে চলে যাব। ওই ঘটনার পর তার দুইজন সহকর্মী পারভীন আক্তার ও রোকেয়া আক্তার বাসায় গিয়ে ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়ে তাঁকে হুমকি দিয়ে এসেছেন বলে তিনি জানান।

বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন। নাজমুন নাহার আরও বলেন, যেখানে শিক্ষকরা শিক্ষককে ও ছাত্ররা শিক্ষককে সম্মান দিতে জানেনা সেই বিদ্যালয়ে আর ফিরে যাব না। এই পেশায় আর ফিরে যেতে ইচ্ছে করছেনা। সরকার যদি নিজ জেলায় আমাকে বদলির ব্যব¯’া করে তবে না হয় ভেবে দেখব। শিক্ষক রোকেয়া আক্তার বলেন, ওই ঘটনার সময় আমি উপ¯ি’ত ছিলাম।

এ ঘটনা দেখে আমি দেখে খুবই মর্মাহত। ওই ঘটনা মিমাংসা হয়ে গেছে এ বিষয় নিয়ে আমি আর কথা করতে চা”িছনা। তবে তাঁর এবং অপর শিক্ষক পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে আনা সহকর্মী ভুক্তভোগী শিক্ষকের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। মেহেদির বাবা ওই স্কুলের দপ্তরী সবুুর মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংবাদকর্মীর পরিচয় পেয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। 

 স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো.মোশারফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অবশ্যই অনাকাঙ্খিত। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তিনি বিষয়টি অবগত করেননি বলে জানান। স্থানীয়ভাবে বসে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। সালিসি বৈঠকে সবুর মিয়ার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে তা বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে বিধি মোতাবেক ব্যব¯’া গ্রহণ করা হবে।

তবে বৈঠকে যে বিচার করা হয়েছে তাতে তিনি সš‘ষ্ঠ বলে জানান।  সালিসি বৈঠকের প্রধান ছিলেন ধলাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এজহারুল ইসলাম মিঠু ভূইয়া। তিনি স্বীকার করেন ¯’ানীয়রা এ বিচারে সš‘ষ্ঠ না। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে এর চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকও এ বিচারে সন্তুষ্ট না। 

 উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তিনদিন পার হলেও তিনি কিছুই জানেন না। লোকমুখে শুনে বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান তিনি। ডা.শওকত আলী ভূইয়া উ”চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত কোনো কমিটি নেই।

সভাপতির দায়িত্বে আছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো.মাহমাদুল হাসান বলেন, ওই ঘটনা স্কুলের কোনো শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেননি। তবে লোকমুখে বিষয়টি তিনি শুনেছেন বলে জানান। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।