সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় একটি তালাবদ্ধ ও প্রাচীরবেষ্টিত বাড়ি থেকে স্বপ্না বেগম (৪৮) নামে এক নারীর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণটারী গ্রামের ‘স্বচ্ছ মঞ্জিল’ নামক একটি বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত স্বপ্না বেগম ওই এলাকার মৃত নাজমাল হোসেনের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে স্বপ্না বেগম স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস করতেন। তবে মাঝে মধ্যে তিনি গ্রামে আসতেন।
চার দিন আগে তিনি ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে আসেন। বাবার বাড়ির পাশেই তার ভগ্নিপতি নান্নু সরকারের একটি প্রাচীরবেষ্টিত বাড়ি রয়েছে, যা বর্তমানে ফাঁকা পড়ে আছে। একা থাকার জন্য স্বপ্না সেই বাড়িটি বেছে নেন।
শনিবার রাতে তিনি যথারীতি ওই বাড়িতে ঘুমাতে যান। রোববার সকালে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা বাড়ির প্রধান ফটক খোলা দেখে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের ভেতর স্বপ্নার বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ মরদেহটি বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া গেছে।
শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে একে হত্যাকাণ্ড মনে করছে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে লুণ্ঠন বা পাশবিক নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করেছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছি। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে এটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।