দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে প্রস্তাবিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ শীর্ষক দুটি বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিল দুটি উত্থাপনের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্দেশ্যে বিল এনেছেন, তার বেশিরভাগ বিষয়ই বিদ্যমান আইনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ মদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই একই বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি এবং বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।
এরপর বিলের প্রস্তাবকারী বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহারে সম্মতি দেন। অধিবেশন পরিচালনাকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, প্রস্তাবকারী সদস্য বিল উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আর ভোটে তোলা হয়নি।
প্রস্তাবিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’-এর উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার স্বার্থে এ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী নন এমন সংসদ সদস্য জনস্বার্থে বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন। তবে সংসদের অনুমোদন ও পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই তা আইনে পরিণত হয়। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে বেসরকারি বিলের নজির থাকলেও খুব কম বিলই শেষ পর্যন্ত আইনে রূপ পেয়েছে।