কক্সবাজারে জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকায় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী সিকদার ওরফে লিয়াকত মেম্বারকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এই ঘটনায় মঈন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ একজনকে আটক করেছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। তবে একজনকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হলেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী সিকদার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
রোববার (২৪ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেছনে আদালতের পশ্চিম গেটে এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ মঈন উদ্দিন লিয়াকত আলী মেম্বারের চাচাতো ভাই ও কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পিস্তলসহ আটক জিয়াউল হক জিয়া ঈদগাঁও উপজেলার সীমান্ত পয়েন্টের রামু উপজেলাধীন কালিরছড়া এলাকার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে একটা পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুইটা ম্যাগাজিন, ছয়টা গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও আব্দুস শুক্কুর ও মো. রুবেল নামের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, হেফাজতে নেয়া দুইজনকেও গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
ওসি জানান, প্রাথমিক তথ্যমতে-পূর্বশত্রুতার জেরে লিয়াকত আলী মেম্বারের প্রতিপক্ষরা তার উপর গুলি চালিয়েছে। কিন্তু গুলি তার গায়ে না লেগে পাশে থাকা তার চাচাতো ভাই মঈন উদ্দিনের গায়ে লাগে।
ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনা তদন্তের জন্য এই মুহূর্তে প্রতিপক্ষের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় জিয়াউল হক জিয়া নামের একজনকে পিস্তলসহ আটক করা হয়। কক্সবাজারের রামু উপজেলার কালিরছড়ায় তার বাড়ি হলেও সে রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী মেম্বার শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহির হত্যা মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে আসেন। হাজিরা শেষে আদালত থেকে নেমে দক্ষিণ পাশে আসেন লিয়াকত। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। লিয়াকত আলী সরে গেলে গুলিটি পাশে থাকা এক ব্যক্তির শরীরে বিদ্ধ হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হতে পারে। স্থানীয় ভাবে প্রচুর শত্রু রয়েছে লিয়াকত আলী মেম্বারের।
এদিকে মঈন উদ্দিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওখানে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাটি পুরোটাই ডাউটফুল। গাড়িতে তুলে একজনকে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রচার হলেও গাড়িটি ছিল লিয়াকত মেম্বারের। গাড়ির সেই লোকটি কোথায় গেলো তার সঠিক তথ্য মিলছে না। অধিকতর তদন্ত চলছে।
এ ব্যাপারে জানতে লিয়াকত আলী সিকদারের মোবাইল নাম্বারে বারবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তিনি গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁকে হত্যা করতে গুলি করা হয়েছিল। সেই গুলি সাথে থাকা চাচাতো ভাইয়ের গায়ে লেগেছে।
প্রসঙ্গত, ইতোপূর্বেও নিজের বাড়িতে ঢুকে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।