নাশকতা মামলায় জামিনে ফিরেই হামলার অভিযোগ; পাল্টা হামলায় বাড়ি-গোডাউন ভাঙচুর, আহত ১৫, আটক ১
কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের নলকোলা গ্রামে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং পাল্টা হামলায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নাশকতা মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালান। এ সময় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং সেখানে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কয়েকজন আহত হন।
অভিযোগ রয়েছে, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. রুহুলের নেতৃত্বে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল রাত ৮টার দিকে নলকোলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা স্লোগান দিতে দিতে কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং সেখানে ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নাশকতার একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলসহ একাধিক ব্যক্তি আসামি ছিলেন। মঙ্গলবার আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তারা এলাকায় ফিরে আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
এর কিছু সময় পর বিএনপি কার্যালয়ে হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুলের বাড়িতে পাল্টা হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় রুহুলের বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি তার মালিকানাধীন একটি পাটের গোডাউনেও হামলা করা হয়। পরে গোডাউনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তিনিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
তিনি বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো পক্ষ সংঘাতে জড়াতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর নলকোলা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহল জোরদার করেছে বলে জানা গেছে।
তবে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, তা আরও স্পষ্ট হবে।