শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মহিপুরে দন্ত চিকিৎসার আড়ালে ‘মৃত্যুফাঁদ’: স্বাস্থ্যসেবার ভোগান্তিতে প্রান্তিক মানুষ

কলাপাড়া,পটুয়াখালী প্রতিনিধি: প্রান্তিক জনপদে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ছোঁয়া পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে বেড়েই চলেছে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ।  পটুয়াখালীর মহিপুর থানা এলাকায় ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ভুল চিকিৎসার কারণে এক রোগীর মৃত্যুসহ একাধিক ভুক্তভোগীর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির দাবি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামের এই অপচিকিৎসালয় দীর্ঘদিন ধরে […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ মে ২০২৬, ০১:২৩

কলাপাড়া,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

প্রান্তিক জনপদে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার ছোঁয়া পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে বেড়েই চলেছে অপচিকিৎসা, প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ। 

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা এলাকায় ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। ভুল চিকিৎসার কারণে এক রোগীর মৃত্যুসহ একাধিক ভুক্তভোগীর দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার’ নামের এই অপচিকিৎসালয় দীর্ঘদিন ধরে অপেশাদার ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক ভুক্তভোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান স্থায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কথিত দন্ত চিকিৎসক ডা. হারুন এর বিরুদ্ধে অতীতে ভুয়া চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে কারাভোগের তথ্য রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জেল থেকে বের হয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এছাড়া তার ভাই আব্দুল হাকিম কলাপাড়ায় দন্ত চিকিৎসক এবং মহিপুরে নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। আরও অভিযোগ রয়েছে— ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে এই ভূয়া চক্ষু বিশেষজ্ঞই হাতুড়ি-বাটাল নিয়ে রোগীদের দাঁতের চিকিৎসা করান, যা আইনি ও নৈতিকভাবে গুরুতর অপরাধ।

সরেজমিনে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে লোমহর্ষক সব তথ্য:

জনৈক এক ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে দাঁতে মারাত্মক ইনফেকশন হয়ে পচন ধরে, পরে অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে ওই রোগী মৃত্যুবরণ করেন। একই অভিযোগ করেন কুয়াকাটার আরেক ভুক্তভোগী। তিনি জানান, ওই ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর দাঁতে ইনফেকশন হয়। পরে তিনি উন্নত চিকিৎসায় সুস্থ হয়।

এক ভুক্তভোগী জানান, ব্যথানাশক ইনজেকশন ছাড়াই বাটাল দিয়ে তার সুস্থ দাঁত তুলে ফেলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দন্ত চিকিৎসকের বদলে তার দাঁত তুলেছেন ভূয়া চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দেওয়া আঃ হাকিম, যা ছিল অত্যন্ত অমানবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এনিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আরেকজন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়া অধিকাংশ মানুষই পরবর্তীতে জটিলতায় ভুগছেন। এমনকি এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত চিকিৎসককে মারধরও করেন।

এক নারী ভুক্তভোগীর বাবা জানান, একটি দাঁত তোলার কথা থাকলেও তার মেয়ের তিনটি দাঁত তুলে ফেলা হয়—যা মেয়েটিকে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ফেলেছে।

আরেকজন জানান, একটি দাঁতে ক্যাপ বসানোর কথা থাকলেও দুটি দাঁতে ক্যাপ বসানো হয়, যার ফলে তিনি তীব্র ব্যথায় ভুগছেন এবং রাতে ঘুমাতে পারছেন না।

এতসব গুরুতর অভিযোগ থাকার পরেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, স্বাস্থ্যখাতে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকারিতা কোথায়?

ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা​ দ্রুত এই অপ-চিকিৎসকদের গ্রেফতার দাবি করে বলেন, একজন ভুয়া ডাক্তারের কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হবে, আর আইন প্রশাসন নীরব থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। 

এমন লোমহর্ষক ঘটনার পরও বীরদর্পে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন এই চক্র। স্বল্পমূল্যের চিকিৎসার আশায় নিম্নআয়ের মানুষ এসব প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হলেও স্থায়ীভাবে শারীরিক সক্ষমতা হারাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক ক্ষতি, অন্যদিকে আইন ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসকদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে যথাযথ তদন্ত চালাতে হবে, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি খুদেবার্তা (হোয়াটসঅ্যাপ) পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া মেলেনি।

​কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ জানান, আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয় বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে আমি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে পারব।

​পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “বিষয়টি আমি প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।”

মহিপুরের এই ঘটনা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়—এটি প্রান্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকটের এক বাস্তব চিত্র। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অপচিকিৎসা আরও বিস্তৃত হয়ে সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।