সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

লালমনিরহাটে তামাক চাষে বিপ্লব না কি মহাবিপদ

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি  বৃহত্তর রংপুর বিভাগে, বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলায় তামাক চাষে এক ভয়াবহ বিপ্লব ঘটেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে তামাকের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের এই ক্ষতিকর চাষের দিকে উন্মাদের মতো ধাবিত করছে। কৃষি বিভাগের শত চেষ্টা আর তামাক বিরোধী আন্দোলনের তোড়জোড় ছাপিয়ে মাঠের পর মাঠ এখন তামাকের দখলে। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী […]

লালমনিরহাটে তামাক চাষে বিপ্লব না কি মহাবিপদ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১০ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৩

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি 

বৃহত্তর রংপুর বিভাগে, বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলায় তামাক চাষে এক ভয়াবহ বিপ্লব ঘটেছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে তামাকের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের এই ক্ষতিকর চাষের দিকে উন্মাদের মতো ধাবিত করছে। কৃষি বিভাগের শত চেষ্টা আর তামাক বিরোধী আন্দোলনের তোড়জোড় ছাপিয়ে মাঠের পর মাঠ এখন তামাকের দখলে। ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রংপুর অঞ্চলে উৎপাদিত মোট তামাকের প্রায় ৭০ শতাংশই উৎপাদিত হয় লালমনিরহাট জেলায়। বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলে এর ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়। বিগত কয়েক বছরে লালমনিরহাটে তামাক চাষ ও এর মূল্য জ্যামিতিক হারে বেড়েছে। ২০২২ সালে ১৮,৫০০ হেক্টরে চাষ হওয়া তামাকের মণ ছিল ৬,০০০ টাকা, যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে বর্তমানে (২০২৫-২৬) ২৫,০০০ হেক্টর ছাড়িয়েছে এবং বাজারমূল্য ঠেকেছে রেকর্ড ১৩,০০০ টাকায়। মূলত প্রতি বছর অস্বাভাবিক মুনাফা ও কোম্পানির প্রলোভনে কৃষকরা খাদ্যশস্য বাদ দিয়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন।

গত মৌসুমে তামাকের বাজারমূল্য কৃষকদের কল্পনার বাইরে চলে গিয়েছিল। লালমনিরহাটের কৃষক আনোয়ার পাশা জানান, “আগে তামাকের দাম প্রতি মণে ৬,০০০ টাকার আশেপাশে থাকত। কিন্তু এবার আমরা তামাক বিক্রি করেছি ১৩,০০০ টাকা পর্যন্ত।”

আরেক কৃষক আসিফ উদ্দিন (৫৫) জানান, গত বছর ৪ বিঘা জমিতে চাষ করে অভাবনীয় লাভ পাওয়ায় এ বছর তিনি চাষের পরিধি আরও বাড়িয়েছেন। তার মতে, অন্য কোনো ফসলে এতো অল্প সময়ে এতো বেশি লাভ করা সম্ভব নয়। এই অধিক মুনাফার লোভেই কৃষকরা ধান বা সবজি চাষ বাদ দিয়ে তামাকের দিকে ঝুঁকছেন।

বেসরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে অন্তত ৭টি বড় তামাক কোম্পানি সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়। তারা কৃষকদের কেবল উৎসাহই দিচ্ছে না, বরং দিচ্ছে নানাবিধ প্রলোভন সুদমুক্ত ঋণ চাষের শুরুতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ, বিনামূল্যে উপকরণ সার, বিষ ও কীটনাশক সরবরাহ, নিশ্চিত বাজার ফসল ওঠার পর বিক্রির নিশ্চয়তা।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মোঃ সাইখুল আরিফিন অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “সুনির্দিষ্ট আইনি বিধি-নিষেধ না থাকায় তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা কেবল সচেতনতা বাড়াতে পারি, কিন্তু লাভের অংক যখন দ্বিগুণ হয়, তখন সচেতনতা খুব একটা কাজে আসে না।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে “আমাদের তামাক নয়, বরং খাদ্যের প্রয়োজন। তামাক চাষ কেবল স্বাস্থ্যই নয়, বরং মাটির উর্বরতা ও খাদ্য নিরাপত্তাকেও সরাসরি ধ্বংস করছে।”

তামাক বিরোধী সংগঠনগুলোর (PROGGA, WBB Trust) মতে, তামাক কোম্পানিগুলোর ঋণের প্রলোভন ও সাময়িক মুনাফার লোভে পড়ে কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তামাক চাষের ফলে জমির উর্বরতা চিরতরে নষ্ট হচ্ছে, বন উজাড় হচ্ছে এবং খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গিয়ে চরম খাদ্য সংকটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মূলত তামাক চাষ কেবল জনস্বাস্থ্যই নয়, বরং আমাদের মাটি ও পরিবেশকেও বিষাক্ত করে তুলছে।

তামাক চাষ কেবল বর্তমানের খাদ্য উৎপাদনই কমাচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতের মাটিকেও পঙ্গু করে দিচ্ছে। তামাকের শিকড় মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত গিয়ে পুষ্টি শোষণ করে। এছাড়া উর্বরতা হ্রাস তামাকের চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, তামাক পাতা শুকানোর জন্য বনের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা বায়ুদূষণ বাড়াচ্ছে, চাষি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা (বিশেষ করে শিশুরা) ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ সহ শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

তামাক কোম্পানির আগ্রাসন আর নগদ মুনাফার লোভে কৃষকরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করে কোম্পানির ঋণের বিকল্প হিসেবে সরকারি কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত না করলে, লালমনিরহাটসহ পুরো উত্তরবঙ্গ এক সময় শস্যভাণ্ডারের পরিবর্তে বিষের ভাণ্ডারে পরিণত হবে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।