বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

আজাদি না গোলামি— চূড়ান্ত ফয়সালা হবে ভোটেই: জামায়াতে আমির

এই রাজনৈতিক লড়াই কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সংগ্রাম। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে। আজাদি না গোলামি—এই প্রশ্নের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে ভোটের দিন।

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৮

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদীয় প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান সোমবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে মিরপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন। গণমিছিলের শুরুতে তিনি বলেন,

এই রাজনৈতিক লড়াই কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সংগ্রাম। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে এগোবে, নাকি আবারও পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হবে। আজাদি না গোলামি—এই প্রশ্নের চূড়ান্ত ফয়সালা হবে ভোটের দিন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের বিষয় নয়; এই ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মামলাবাজির রাজনীতি চলবে কি না এবং দেশের মা-বোনেরা নিরাপত্তা ও মর্যাদা পাবে কি না। বিকেলে আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকা থেকে শুরু হওয়া গণমিছিলটি আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মিরপুর এলাকায় পৌঁছায়। আগারগাঁও থেকে তালতলা হয়ে মিরপুর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মূল সড়কসহ বিভিন্ন অলিগলিতে মানুষের ঢল নামে। গণমিছিলে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

একই দিন রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহে ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসানোর আহ্বান জানান। তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, একটি পক্ষ ও পরিবার জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং হারের ভয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনে কারচুপি হলে তা ক্ষমা করা হবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট নির্বাচনে জয়ী হলে মামুনুল হক মন্ত্রী হবেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনিও নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, কারচুপি হলে ছাড় দেওয়া হবে না। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, এখন থেকেই ভোট পাহারা শুরু করতে হবে। জালিয়াত, ভোটচোর ও অবৈধ ইঞ্জিনিয়াররা যদি জনগণের ভোট নিয়ে খেলতে চায়, তবে তা শক্ত হাতে রুখে দিতে হবে। বিজয়ের মালা পরিয়ে দিয়েই ঘরে ফিরতে হবে।

তিনি বলেন, যারা ক্ষমতার জন্য পাগল হয়ে গেছে, জনগণ তাদের অতীতে দেখেছে এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ এবারও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। যারা জনগণের পক্ষে ও জুলাই আকাঙ্ক্ষার পক্ষে আছে, তারাই বিজয়ী হবে। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে চোরাইপথে নির্বাচন হাইজ্যাকের চিন্তা করছে, গুন্ডা লেলিয়ে দিচ্ছে, অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তরুণরা ১২ ফেব্রুয়ারি একই রায় দেবে। কেউ যদি সেই রায় ভয়ের কারণে চোরাইপথে বদলাতে চায়, জাতি তা ক্ষমা করবে না।

আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কিছু অসৎ আমলা ও সচিব এখনো দলবাজি করে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে জেতানোর চেষ্টা করছে। কে জিতবে বা হারবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণের ভোট। অতীতে অপরাধ করে যারা ক্ষমা পেয়েছে, ভবিষ্যতে আর সেই সুযোগ পাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিতর্কিত নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করে দেশকে আবার ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দেওয়ার দুঃসাহস না দেখাতে সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ এমন দুঃসাহস দেখালে পরিণতি ভালো হবে না। জুলাইতে যেমন ফ্যাসিবাদ রুখে দেওয়া হয়েছে, আগামীতেও তেমনই রুখে দেওয়া হবে।

নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা হলে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে নেই। জনগণের ভোট কেউ ছিনতাই করতে পারবে না। তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট জুলাই আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও সব ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয় নিশ্চিত বলেও তিনি দাবি করেন।

ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হকের রিকশা প্রতীকে ভোট চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রিকশা জনগণের প্রতীক, তরুণ প্রজন্ম ও নারী সমাজের প্রতীক, আধিপত্যবাদবিরোধী মানুষের প্রতীক। মামুনুল হক জয়ী হলে তিনি দেশ ও ঢাকা-১৩ আসনের জন্য মর্যাদাবান মন্ত্রী হবেন এবং সংসদে ইনসাফের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবেন। একই দিনে জামায়াত আমির ঢাকা-১৫ আসনে নিজের জন্যও ভোট চেয়ে গণমিছিল করেন, যেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৩৬৮

রাজনীতি

১৫ বছর পর খালাস পেলেন বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস-দিনারসহ ৩৮ জন

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক। মানবপাচার […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ১৪:৫০

সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও নায়িকা শাবনুরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে মারার মামলায় আসামিরা দীর্ঘ ১৫ বছর পর খালাস পেয়েছেন।

খালাসপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। মঙ্গলবার দুপুরে মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে আসামিরা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেন বিচারক।

মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এ খালাসের রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত অন্য উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ। রায় ঘোষণার সময় আসামি পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত এবং অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেসের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্য একটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে বাসের ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান চিত্রনায়িকা শাবনুরের পিতা হিসেবে পরিচয়দানকারী ৭০ বছরের বৃদ্ধ কাজী নাছির।

ঘটনার পর পুলিশ বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করলেও ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে ছবি ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন। তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত জানিয়েছিলেন, নিহতের জুতা, ঘড়ি ও বেল্ট দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওই ঘটনার রাতে এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা এবং পরিবহণ ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান দ্রুতবিচার আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বর্তমানে নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী ও দিনার ছাড়াও কোহিনুর, আশিক, মকছুদ আহমদ, রাসেল, তোরন, সামছুল ইসলাম টিটু ও এমএ মান্নানসহ মোট ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত ইলিয়াস আলী ও দিনারসহ ৩৮ জন আসামিকে এই দায় থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল যা আজ আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ও দিনারের সন্ধান না মিললেও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নাম এ মামলা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ল। বর্তমানে রায় পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৯০
বিষয়ঃ

রাজনীতি

স্বামী সংসদে যেতে না পারলেও যাচ্ছেন স্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী […]

নিউজ ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলুর কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনে বাবলু ১ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, অন্যদিকে মতিউর রহমান পান ১ লাখ ৮৭৬ ভোট।

তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েননি তিনি; বরং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মুন্নী জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি এবং দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবেও কর্মরত। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মানবাধিকার ও আইনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, কঠিন সময়ে দলের জন্য তার অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মতিউর রহমানও জানিয়েছেন, জামায়াত যোগ্যতা ও ত্যাগকে মূল্যায়ন করেই প্রার্থী নির্বাচন করে। সাবিকুন্নাহার মুন্নী আশা প্রকাশ করেছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি দেশের অবহেলিত নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করবেন এবং জনগণের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৯০

রাজনীতি

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ […]

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

১২ মন্ত্রী ও ১৮ প্রতিমন্ত্রী নিয়ে গঠন হচ্ছে নতুন মন্ত্রিসভা

নিউজ ডেস্ক

১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ দুই দশক বিরতি দিয়ে চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের এক সুসমন্বিত রূপ। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৮ জন প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। দেশ ও বিদেশের রাজনৈতিক মহলে এই মন্ত্রিসভা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও চূড়ান্ত তালিকাটি কেবল হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে।

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভায় অনেক প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যকে দেখা না-ও যেতে পারে। তারেক রহমান মূলত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মিশেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশ গড়ার পরিকল্পনা করছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি যুক্ত হতে পারেন। এ ছাড়া যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর একাধিক নেতারও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের জন্য সরকারি পরিবহন পুল থেকে ৩৭টি গাড়ি এবং সমসংখ্যক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে শুরুতে মন্ত্রিসভার আকার ৪০ জনের কাছাকাছি হতে পারে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাসের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনে বেশি আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে। অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞদের দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া তরুণ ও মেধাবী মুখ হিসেবে সানজিদা ইসলাম তুলি এবং মাহদী আমিনের মতো নেতাদের টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। শরিকদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি এবং নুরুল হক নুরের মতো তরুণ নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।

নবনির্বাচিত এই সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। তারেক রহমান ইতিপূর্বে দলীয় ফোরামে জানিয়েছেন যে, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এ লক্ষ্যে সংসদ উপনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও প্রাণবন্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

২০০১ সালের পর এবারই প্রথম বিএনপি একক শক্তিতে সরকার গঠন করলেও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শপথ বাক্য পাঠ করানোর মধ্য দিয়েই তিন দশক পর বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এক নতুন সরকার।

সূত্র: মানবজমিন

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭২৯০