সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ফুড পয়জনিং করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। বিষয়টি তদন্তে জরুরি ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে ফুড পয়জনিং করার বিষয়টি সত্য। এ ঘটনায় দ্রুত একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ভূমিকা সবসময় স্মরণে রাখতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়ার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব।
তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ ভিন্নমত প্রকাশ করতে ভয় পাবে না। কেউ গুম, গুপ্তহত্যা কিংবা রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের আশঙ্কায় থাকবে না। খালেদা জিয়া এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যই রাজনীতি করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, ১৯৮১ সালে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের পুরো সময় তিনি দেশের জনগণের স্বার্থের কথা বলেছেন। এ কারণে তাঁকে নানা অপপ্রচার, মিথ্যা অভিযোগ, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী অভিযোগ করেন, তাঁর অসুস্থতাকে তৎকালীন সরকার যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। উন্নত চিকিৎসার সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভী বলেন, যারা ১/১১-এর সময় নিজেরা বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং প্রয়োজনে দেশের বাইরে গেছেন, তারা খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের মানবিক আচরণ করেনি।
তিনি আরও বলেন, কারাগারে যাওয়ার সময় খালেদা জিয়া হেঁটে গিয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও নানা শারীরিক জটিলতায় তিনি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় কারাগার থেকে বের হন। পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থাতেই গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলীসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।