শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নওগাঁ-২ আসনে বাড়ছে ভোটের উত্তাপ, বিএনপি -জামায়াত মুখোমুখি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। ৬৭৯ বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এলাকায় মোট ইউনিয়ন সংখ্যা ১৯টি,পৌরসভা সংখ্যা ০২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭২৪৩৬ জন নিয়ে গঠিত নওগাঁ -২ আসন। এবার মোট ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার বা এক বারও ভোট প্রদান করেন নি প্রায় ৩৭% ভোটার।

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৫৯

ধামইরহাট প্রতিনিধি (নওগাঁ)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। ৬৭৯ বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এলাকায় মোট ইউনিয়ন সংখ্যা ১৯টি,পৌরসভা সংখ্যা ০২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭২৪৩৬ জন নিয়ে গঠিত নওগাঁ -২ আসন। এবার মোট ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার বা এক বারও ভোট প্রদান করেন নি প্রায় ৩৭% ভোটার।

নওগাঁ-২ আসনে ভোটার ও সমর্থকদের নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছে পথঘাট ও পাড়া-মহল্লা। হাটবাজার, কৃষকদের মাঠ থেকে চায়ের টেবিলে একটাই আলোচনা কে জিতবে, কে হারবে কে যাবে আগামী সংসদে । চলছে ভোটের অঙ্ক কষা ও রাজনৈতিক চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এ আসন থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে (ধানের শীষ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে জামায়াত ও বিএনপি পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কিন্তু এবি পার্টির কোনো কর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনি মাঠে গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি, মাঝে মাঝে অটো ভ্যানে মাইকে ভোটের মাইকিং শোনা যায়।

চায়ের স্টল ও বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর এই আসনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও গত ৫ আগস্টের পর এর রাজনৈতিক বাস্তবতা পুরোটাই বদলে গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠের বাইরে থাকলেও তাদের ভোট নিয়ে টানাটানিতে ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত। সকলে মনে করছেন আওয়ামীলীগের ভোটই আগামী সংসদ নির্বাচনে মুল ফ্যাক্টর হয়ে দাড়াবে, এ কারণে দীর্ঘদিন পর ঘাঁটি পুনর্দখলে নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে গণসংযোগে মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভক্তির কারণে পুরোনো ঘাঁটি দখল করা খুব একটা সহজ কাজ হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর জামায়াত।

সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত বিএনপির একাংশ অভিযোগ করে বলেন, ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, ওই কমিটিতে বিগত দিনের অনেক ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের বাদ দিয়ে দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের জায়গা করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দলের দুর্দিনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও ওই কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ায় মূলত এখান থেকেই স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা শাখা বিএনপির এক নেতা বলেন, পাঁচ আগস্টের পর এই আসনে যেভাবে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করা হয়েছে তা দলের ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি নষ্ট করেছে। এ কারণে দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা নতুন নেতৃত্ব হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাজিবুল্লাহ চৌধুরী ও ধামইরহাট উপজেলা শাখা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে এমপি হিসেবে প্রত্যাশা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন বোর্ড তাদের বাদ দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহাকে মনোনয়ন দেয়। এতে বিএনপির একাংশের মধ্যে ভাঙন ও হতাশা তীব্র হয়ে ওঠে। নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের এই ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে বিএনপির চাইতে সুসংগঠিত এবং দলটির ভেতরে ও বাইরে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকার পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।

ভোট কাকে দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে এক ভোটার জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের রূপ দেখেছি এবং স্বৈরাচারের খেতাব নিয়ে আওয়ামী লীগ হয়েছে দেশ ছাড়া। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির দখলবাজি আর চাঁদাবাজি আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এ কারণে কাকে ভোট দেব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

তবে অন্য ভোটাররা বিএনপি এবং জামায়াতের প্রতিই তাদের আস্থা ও ভরসার কথা জানিয়েছেন, তারা আরো বলেন আগামী তে মানুষ স্বতঃস্পত ভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থিকেই ভোট দিবেন।

কথা হয় ধামইরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মো,শহিদুর ও ধামইরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো আনারুল ইসলামের সঙ্গেে তারা বলেন আমরা ধামইরহাটে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানের সমর্থনে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে নির্বাচন প্রচারণা চালাচ্ছি ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি, মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

অপরদিকে নওগাঁ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতা পক্ষের বৃহৎ একটি গণতান্ত্রিক দল। এ কারণে দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে বিগত দিনের মতো এবারও ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, মান-অভিমান নিয়ে যারা দূরে সরে গিয়েছিল আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমার সঙ্গে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছেন। যেমন

ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপলের নেতৃত্বে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আরো অনেকে বিভেদ ভুলে তারেক রহমান কে নওগাঁ -২ উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জানান, ধামইরহাট ও পত্নীতলা দুই উপজেলা থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মহিলা কলেজগুলোকে জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে মহিলাদের শিক্ষিত করাসহ দুই উপজেলাকে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেগুলো এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে তার ব্যবস্থা করাসহ সাধারণ মানুষদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য যে দুটি হাসপাতাল রয়েছে তা আধুনিকায়ন করা হবে।

এতকিছু সমীকরণের পর ও অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কে হাসবে শেষ হাসি,,,

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।