সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নওগাঁ-২ আসনে বাড়ছে ভোটের উত্তাপ, বিএনপি -জামায়াত মুখোমুখি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। ৬৭৯ বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এলাকায় মোট ইউনিয়ন সংখ্যা ১৯টি,পৌরসভা সংখ্যা ০২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭২৪৩৬ জন নিয়ে গঠিত নওগাঁ -২ আসন। এবার মোট ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার বা এক বারও ভোট প্রদান করেন নি প্রায় ৩৭% ভোটার।

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০:৫৯

ধামইরহাট প্রতিনিধি (নওগাঁ)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ। ৬৭৯ বর্গকিলোমিটারের আয়তনের এলাকায় মোট ইউনিয়ন সংখ্যা ১৯টি,পৌরসভা সংখ্যা ০২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩৭২৪৩৬ জন নিয়ে গঠিত নওগাঁ -২ আসন। এবার মোট ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার বা এক বারও ভোট প্রদান করেন নি প্রায় ৩৭% ভোটার।

নওগাঁ-২ আসনে ভোটার ও সমর্থকদের নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছে পথঘাট ও পাড়া-মহল্লা। হাটবাজার, কৃষকদের মাঠ থেকে চায়ের টেবিলে একটাই আলোচনা কে জিতবে, কে হারবে কে যাবে আগামী সংসদে । চলছে ভোটের অঙ্ক কষা ও রাজনৈতিক চুলচেরা বিশ্লেষণ।

এ আসন থেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে (ধানের শীষ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহা খান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মনোনীত প্রার্থী মতিবুল ইসলাম (ঈগল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে জামায়াত ও বিএনপি পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন কিন্তু এবি পার্টির কোনো কর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনি মাঠে গণসংযোগ করতে দেখা যায়নি, মাঝে মাঝে অটো ভ্যানে মাইকে ভোটের মাইকিং শোনা যায়।

চায়ের স্টল ও বাজারে সরেজমিন দেখা যায়, দীর্ঘ ১৭ বছর এই আসনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও গত ৫ আগস্টের পর এর রাজনৈতিক বাস্তবতা পুরোটাই বদলে গেছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মাঠের বাইরে থাকলেও তাদের ভোট নিয়ে টানাটানিতে ব্যস্ত বিএনপি-জামায়াত। সকলে মনে করছেন আওয়ামীলীগের ভোটই আগামী সংসদ নির্বাচনে মুল ফ্যাক্টর হয়ে দাড়াবে, এ কারণে দীর্ঘদিন পর ঘাঁটি পুনর্দখলে নির্বাচনি জনসভা ও পথসভায় লিফলেট বিতরণের মধ্য দিয়ে গণসংযোগে মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভক্তির কারণে পুরোনো ঘাঁটি দখল করা খুব একটা সহজ কাজ হবে না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর জামায়াত।

সংস্কারপন্থি হিসেবে পরিচিত বিএনপির একাংশ অভিযোগ করে বলেন, ধামইরহাট ও পত্নীতলা উপজেলা ও পৌর শাখা বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যে ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল, ওই কমিটিতে বিগত দিনের অনেক ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের বাদ দিয়ে দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের জায়গা করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দলের দুর্দিনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির অনেক শীর্ষ পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও ওই কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কোনো ব্যবস্থা না পাওয়ায় মূলত এখান থেকেই স্থানীয় ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা শাখা বিএনপির এক নেতা বলেন, পাঁচ আগস্টের পর এই আসনে যেভাবে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করা হয়েছে তা দলের ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি নষ্ট করেছে। এ কারণে দলের কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা নতুন নেতৃত্ব হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি নাজিবুল্লাহ চৌধুরী ও ধামইরহাট উপজেলা শাখা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর মধ্য থেকে যেকোনো একজনকে এমপি হিসেবে প্রত্যাশা করেছিল।

তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন বোর্ড তাদের বাদ দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য সামসুজ্জোহাকে মনোনয়ন দেয়। এতে বিএনপির একাংশের মধ্যে ভাঙন ও হতাশা তীব্র হয়ে ওঠে। নির্বাচনের আগে দলের নেতাকর্মীদের এই ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে বিএনপির চাইতে সুসংগঠিত এবং দলটির ভেতরে ও বাইরে কোনো দ্বন্দ্ব না থাকার পাশাপাশি নির্বাচনের মাঠে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।

ভোট কাকে দেবেন এমন প্রশ্নের জবাবে এক ভোটার জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের রূপ দেখেছি এবং স্বৈরাচারের খেতাব নিয়ে আওয়ামী লীগ হয়েছে দেশ ছাড়া। গত ৫ আগস্টের পর বিএনপির দখলবাজি আর চাঁদাবাজি আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এ কারণে কাকে ভোট দেব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

তবে অন্য ভোটাররা বিএনপি এবং জামায়াতের প্রতিই তাদের আস্থা ও ভরসার কথা জানিয়েছেন, তারা আরো বলেন আগামী তে মানুষ স্বতঃস্পত ভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থিকেই ভোট দিবেন।

কথা হয় ধামইরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মো,শহিদুর ও ধামইরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো আনারুল ইসলামের সঙ্গেে তারা বলেন আমরা ধামইরহাটে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী শামসুজ্জোহা খানের সমর্থনে পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে নির্বাচন প্রচারণা চালাচ্ছি ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি, মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে।

অপরদিকে নওগাঁ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী সামসুজ্জোহা বলেন, বিএনপি স্বাধীনতা পক্ষের বৃহৎ একটি গণতান্ত্রিক দল। এ কারণে দেশের উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে বিগত দিনের মতো এবারও ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, মান-অভিমান নিয়ে যারা দূরে সরে গিয়েছিল আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমার সঙ্গে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছেন। যেমন

ধামইরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান চৌধুরী চপলের নেতৃত্বে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া আরো অনেকে বিভেদ ভুলে তারেক রহমান কে নওগাঁ -২ উপহার দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা হবে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক জানান, ধামইরহাট ও পত্নীতলা দুই উপজেলা থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মহিলা কলেজগুলোকে জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে মহিলাদের শিক্ষিত করাসহ দুই উপজেলাকে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেগুলো এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি সংসদে আলোচনার মধ্য দিয়ে তার ব্যবস্থা করাসহ সাধারণ মানুষদের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের জন্য যে দুটি হাসপাতাল রয়েছে তা আধুনিকায়ন করা হবে।

এতকিছু সমীকরণের পর ও অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। কে হাসবে শেষ হাসি,,,

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।