ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, যদি বিএনপি এককভাবে ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশে চাঁদাবাজি, গুন্ডাতন্ত্র ও টাকা পাচার আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন,
“বিএনপি একা ক্ষমতায় গেলে বাইপাস দিয়ে আওয়ামী লীগ ও ভারত ঢুকবে। তখন আরেকটি প্রতারক জোট জনগণের ঘাড়ে চেপে বসবে।”
সোমবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা শাখার আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন,
“৩০-৩৫ শতাংশ ভোটে সরকার গঠিত হলেও ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট অপচয় হয়। আমরা চাই পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন, যাতে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকে। এতে দেশ ফ্যাসিবাদী শাসন ও চাঁদাবাজ মুক্ত হবে।”
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক কাঠামো এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে জনগণের ভোটের মূল্য প্রায় শূন্যের কোঠায়। প্রশাসনিক প্রভাব, দলীয় সন্ত্রাস আর অর্থবিত্তের প্রভাব রাজনীতিকে কলুষিত করছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন,
“নরসিংদীতে একজন পুলিশ কর্মকর্তা চাঁদাবাজি রুখতে গিয়ে নিজেই মার খেয়েছেন। দৃশ্যমান বিচার বা সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন হলে গণতন্ত্র নয়, গুন্ডাতন্ত্র কায়েম হবে। চাঁদাবাজি বাড়বে, আরও মায়ের কোল খালি হবে।”
চরমোনাই পীর পিআর পদ্ধতির পক্ষে জোর দিয়ে বলেন,
“পৃথিবীর ৯১টি দেশে এই পদ্ধতি চালু আছে। যারা বলে ‘পিআর পদ্ধতি খায় না মাথায় দেয়’, তারা দেশের রাজনীতি নষ্ট করছে। জনগণ ইসলামের পক্ষে একটি শক্তি চায়—আমরা সেই লক্ষ্যে ইসলামপন্থী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ একক দলীয় আধিপত্য এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণ। তাই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এমন একটি ব্যবস্থা চায়, যেখানে জনগণের প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকবে এবং ইসলামপন্থী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের নৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের নেতৃত্ব দেবে।