বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রোগীর চাপে হিমশিম গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; ১০০ শয্যের দাবি

চলনবিল অধুষ্যিত গুরুদাসপুর উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এটি চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গুরুদাসপুর সহ বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া, তাড়াশ উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে।  ভৌগলিক কারণে আশপাশের বৃহৎ একটি অংশ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালটি ৫০ শয্যের হলেও রোগীর আনাগোনা হয় ১০০ শয্যের বেশি। প্রতিনিয়ত গুরুদাসপুর […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪২

চলনবিল অধুষ্যিত গুরুদাসপুর উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এটি চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গুরুদাসপুর সহ বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া, তাড়াশ উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। 

ভৌগলিক কারণে আশপাশের বৃহৎ একটি অংশ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালটি ৫০ শয্যের হলেও রোগীর আনাগোনা হয় ১০০ শয্যের বেশি।

প্রতিনিয়ত গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে এমন পরিস্থিতি। দুর্ভোগ লাঘবে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যে উন্নীতের দাবি চিকিৎসক ও রোগীদের। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্য থেকে ৫০ শয্যে উন্নীত করা হয়। সুযোগ সুবিধা বাড়ায় তখন থেকেই রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। 

জ¦র-সর্দি থেকে শুরু করে হৃদরোগ। রয়েছে স্বাভাবিক জন্মদান, সিজারিয়ান, হার্নিয়া অপারেশনও। এসব রোগ নিয়ে ২৪ ঘন্টা অনরগল হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। রোগীর তুলনায় হাসপাতালের জনবল-অবকাঠামো কম হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীরও।

হাসপাতালের হিসেব অনুযায় গেল বছরের জুন ২০২৪ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে জরুরী, ভর্তি ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫১৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে আল্ট্রা করিয়েছেন ২ হাজার ৬০০। 

এছাড়া ই সি জি ২২৬৩ ও বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা করিয়েছেন ১২ হাজার ৬৪৫ জন রোগী। তবে ৩৫৯টি এক্সের পর অকেজো হয়ে পড়ে আছে পুড়নো এক্স-রে মেশিন।

হিসেব মতে, এই সময়ে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে অন্তত ২০০ প্রসূতির। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৬০০জন প্রসূতি।

হাসপাতালের কয়েকজন সেবিকা (নার্স) এর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলেন, প্রতি মাসে ১ হাজার থেকে ১হাজার ৫০০ পর্যন্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। ডায়রীয়া বা ঠান্ডাজণিত রোগের প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালের বাড়ান্দায় রোগীদের বিছানা দিতে হয়।

তারা বলেন, হাসপাতালে ওষুধ এবং জনবল বরাদ্দ রয়েছে ৫০ শয্যের। কিন্তু রোগী বাড়ায় একই জনবল নিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেক সময় সরকারি ওষুধ সংকট পড়ায় রোগীর স্বজনদের কাছে তিরস্কারের শিকারও হতে হচ্ছে। তারা চান রোগীর কথা বিবেচনায় এনে এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যে উন্নীত করা হোক।  

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ৫০ শয্যের এই হাসপাতালে মোট ২৮ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও সপ্তাহে দুইদিন হাসপাতালে রোগী দেখছেন হৃদরোগ, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, গাইনী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তাছাড়া ইউনানি চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে আছেন। পর্যাপ্ত সেবীকা (নার্স) থাকলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলও সংকট রয়েছে।

মেডিকেল অফিসার অহিদুজ্জামান রুবেল, চৈতি মুন্সি, রাজিব হোসেন বলেন, একজন চিকিৎসক প্রতিদিন অন্তত শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

বেশিরভাগ দিনেই দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে। এছাড়া সিজারিয়ান অপারেশন রয়েছে। এতো রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ৫০ শয্যের এই কাঠামো বদলে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্য করার দাবি চিকিৎসকদেরও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। আন্তঃবিভাগেও শয্য না থাকায় মেঝে এবং বাড়ান্দায় রোগীদের বিছানা দেওয়া হয়েছে। এনসিডি কর্ণারেও শ’দুয়েক রোগী উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিকের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

তাড়াশ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা বেওয়া ও বড়াইগ্রামের আমেনা বেগম, সিংড়ার গুটিমহিষমাড়ির সেলেনা আক্তারসহ অন্তত ১০-১৫ জন রোগী ‘‘দৈনিক সকাল’’ কে জানান- আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।

একারণে তারা অনেক সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কষ্ট হলেও চিকিৎসা নিয়ে ফিরবেন। তবে রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবি করছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলমাছ হোসেন ‘‘দৈনিক সকাল’’ কে বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে বৃহৎ পরিসরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অন্য হাসপাতাল থেকে অ্যানেসথেশিয়া এনে সিজারিয়ান অপারেশন চালু রেখেছেন তিনি।

সার্বিকভাবে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে হাসপাতালটি ১০০ শয্যে উন্নীত করা উচিত। ১০০ শয্যা ‍উন্নীত হলে চিকিৎসাসেবা সহ আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন চলনবিলের লাখো মানুষ। 

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সারাদেশ

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান। কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক […]

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান।

কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি তিনি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছেন। আকস্মিক এই ঝড়ে তার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

কৃষকদের কাছে কলাগাছের মাজা ভেঙে যাওয়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার হিসাব। আকস্মিক এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা।