মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে এক কৃষকের প্রায় ৭ হাজার ফুলকপির চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন তিন ভাই ও এক ভাতিজার বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক কাশেম মীর।
অভিযুক্তরা হলেন কাশেম মীরের ভাই আব্দুল হামিদ মীর, হাশেম মীর ও হানিফ মীর এবং তাঁদের ভাতিজা মামুন মীর।
ভুক্তভোগী কাশেম মীরের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তির পাশাপাশি নিজের ক্রয় করা জমিও তাঁর ভাইয়েরা দখল করে রেখেছেন। এখন তাঁকে পরিবারসহ বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে তাঁর ফুলকপির ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কাশেম মীরের ছোট ছেলে লালন মীর জানান, ঘটনার দিন ভোরে জমিতে ফুলকপি কাটতে গিয়ে তিনি চাচাতো ভাই মামুন মীর এবং চাচা আব্দুল হামিদ মীর ও হাশেম মীরকে দেখতে পান। এ সময় মামুন মীরের কাঁধে ওষুধ ছিটানোর একটি মেশিন ছিল। পরে সকাল ১০টার দিকে আবার জমিতে গিয়ে ফুলকপির পাতায় পোড়া দাগ দেখতে পান। তাঁর ধারণা, ভোরে জমিতে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ করেই চারাগুলো নষ্ট করা হয়েছে।
লালন মীর আরও বলেন, জমি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে চাচাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তাঁদের কেনা জমিও চাচারা দখল করে চাষাবাদ করছেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে ফসলের ক্ষতি করা হয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
কৃষকের বড় ছেলে মোহন মীর বলেন, ছোট ভাইয়ের কান্নাকাটি শুনে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। পরে জমিতে গিয়ে দেখেন, তাঁদের প্রায় সব ফুলকপির চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। জমি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলায় তাঁদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নিজেদের লাউগাছ নিজেরাই কেটে ফেলেছেন বলে দাবি করেন মোহন মীর।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।