বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রোগীর চাপে হিমশিম গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স; ১০০ শয্যের দাবি

চলনবিল অধুষ্যিত গুরুদাসপুর উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এটি চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গুরুদাসপুর সহ বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া, তাড়াশ উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে।  ভৌগলিক কারণে আশপাশের বৃহৎ একটি অংশ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালটি ৫০ শয্যের হলেও রোগীর আনাগোনা হয় ১০০ শয্যের বেশি। প্রতিনিয়ত গুরুদাসপুর […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৪২

চলনবিল অধুষ্যিত গুরুদাসপুর উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এটি চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে গুরুদাসপুর সহ বড়াইগ্রাম, চাটমোহর, সিংড়া, তাড়াশ উপজেলার শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এই হাসপাতালে। 

ভৌগলিক কারণে আশপাশের বৃহৎ একটি অংশ এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। ফলে হাসপাতালটি ৫০ শয্যের হলেও রোগীর আনাগোনা হয় ১০০ শয্যের বেশি।

প্রতিনিয়ত গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে এমন পরিস্থিতি। দুর্ভোগ লাঘবে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যে উন্নীতের দাবি চিকিৎসক ও রোগীদের। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ২০০৯ সালে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্য থেকে ৫০ শয্যে উন্নীত করা হয়। সুযোগ সুবিধা বাড়ায় তখন থেকেই রোগীর চাপ বাড়তে থাকে। 

জ¦র-সর্দি থেকে শুরু করে হৃদরোগ। রয়েছে স্বাভাবিক জন্মদান, সিজারিয়ান, হার্নিয়া অপারেশনও। এসব রোগ নিয়ে ২৪ ঘন্টা অনরগল হাসপাতালে আসছেন রোগীরা। রোগীর তুলনায় হাসপাতালের জনবল-অবকাঠামো কম হওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। দুর্ভোগ বাড়ছে রোগীরও।

হাসপাতালের হিসেব অনুযায় গেল বছরের জুন ২০২৪ থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে জরুরী, ভর্তি ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ৫১৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে আল্ট্রা করিয়েছেন ২ হাজার ৬০০। 

এছাড়া ই সি জি ২২৬৩ ও বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা করিয়েছেন ১২ হাজার ৬৪৫ জন রোগী। তবে ৩৫৯টি এক্সের পর অকেজো হয়ে পড়ে আছে পুড়নো এক্স-রে মেশিন।

হিসেব মতে, এই সময়ে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে অন্তত ২০০ প্রসূতির। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৬০০জন প্রসূতি।

হাসপাতালের কয়েকজন সেবিকা (নার্স) এর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা বলেন, প্রতি মাসে ১ হাজার থেকে ১হাজার ৫০০ পর্যন্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। ডায়রীয়া বা ঠান্ডাজণিত রোগের প্রকোপ বাড়লে হাসপাতালের বাড়ান্দায় রোগীদের বিছানা দিতে হয়।

তারা বলেন, হাসপাতালে ওষুধ এবং জনবল বরাদ্দ রয়েছে ৫০ শয্যের। কিন্তু রোগী বাড়ায় একই জনবল নিয়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অনেক সময় সরকারি ওষুধ সংকট পড়ায় রোগীর স্বজনদের কাছে তিরস্কারের শিকারও হতে হচ্ছে। তারা চান রোগীর কথা বিবেচনায় এনে এই হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যে উন্নীত করা হোক।  

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানিয়েছে, ৫০ শয্যের এই হাসপাতালে মোট ২৮ জন চিকিৎসকের পদ রয়েছে। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও সপ্তাহে দুইদিন হাসপাতালে রোগী দেখছেন হৃদরোগ, মেডিসিন, নাক-কান-গলা, গাইনী ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তাছাড়া ইউনানি চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে ডেপুটেশনে আছেন। পর্যাপ্ত সেবীকা (নার্স) থাকলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবলও সংকট রয়েছে।

মেডিকেল অফিসার অহিদুজ্জামান রুবেল, চৈতি মুন্সি, রাজিব হোসেন বলেন, একজন চিকিৎসক প্রতিদিন অন্তত শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন।

বেশিরভাগ দিনেই দুপুর ৩টা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে। এছাড়া সিজারিয়ান অপারেশন রয়েছে। এতো রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ৫০ শয্যের এই কাঠামো বদলে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্য করার দাবি চিকিৎসকদেরও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। আন্তঃবিভাগেও শয্য না থাকায় মেঝে এবং বাড়ান্দায় রোগীদের বিছানা দেওয়া হয়েছে। এনসিডি কর্ণারেও শ’দুয়েক রোগী উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিকের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

তাড়াশ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আনোয়ারা বেওয়া ও বড়াইগ্রামের আমেনা বেগম, সিংড়ার গুটিমহিষমাড়ির সেলেনা আক্তারসহ অন্তত ১০-১৫ জন রোগী ‘‘দৈনিক সকাল’’ কে জানান- আশপাশের অন্যান্য হাসপাতালের তুলনায় এখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।

একারণে তারা অনেক সকালে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কষ্ট হলেও চিকিৎসা নিয়ে ফিরবেন। তবে রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসক ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবি করছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলমাছ হোসেন ‘‘দৈনিক সকাল’’ কে বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে বৃহৎ পরিসরে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অন্য হাসপাতাল থেকে অ্যানেসথেশিয়া এনে সিজারিয়ান অপারেশন চালু রেখেছেন তিনি।

সার্বিকভাবে রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে হাসপাতালটি ১০০ শয্যে উন্নীত করা উচিত। ১০০ শয্যা ‍উন্নীত হলে চিকিৎসাসেবা সহ আরও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন চলনবিলের লাখো মানুষ। 

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।