রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

পুলিশে ৪২৪ পদ শূন্য, কার্যত নিষ্ক্রিয় ১১৯ কর্মকর্তা

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সহকারী পুলিশ সুপার পর্যায়ে বর্তমানে মোট ৪২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের ১১৯ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রয়েছেন, কিন্তু তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নেই। অধিকাংশই প্রতিদিন হাজিরা দিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকছেন। এই […]

পুলিশে ৪২৪ পদ শূন্য, কার্যত নিষ্ক্রিয় ১১৯ কর্মকর্তা

পুলিশে ৪২৪ পদ শূন্য, কার্যত নিষ্ক্রিয় ১১৯ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক

০৩ জুলাই ২০২৫, ১০:১৯

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সহকারী পুলিশ সুপার পর্যায়ে বর্তমানে মোট ৪২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের ১১৯ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রয়েছেন, কিন্তু তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নেই। অধিকাংশই প্রতিদিন হাজিরা দিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকছেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করছে, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। আমরা প্রস্তুত আছি।’

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, অতিরিক্ত আইজিপির মোট ২৯টি পদের মধ্যে নয়টি, যার মধ্যে দুইটি গ্রেড-১ ও সাতটি সুপারনিউমারারি পদ এখনো শূন্য। ডিআইজির ১৫২টি পদের মধ্যে ৩৪টি শূন্য রয়েছে। ৩৪১টি অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে দুটি, ১ হাজার আটটি অতিরিক্ত এসপির মধ্যে ৪৭টি এবং ১ হাজার ২৩১টি এএসপির মধ্যে ৩৩২টি পদ এখনো খালি। পুলিশ সুপারের ৭৪৬টি অনুমোদিত পদের কোনোটিই শূন্য না থাকলেও, অন্তত ৫৭ জন এসপি বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন, যাদের নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব নেই।

তবে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এনামুল হক সাগর ইত্তেফাককে বলেন, ‘পদোন্নতি, বদলি ও শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া।’ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আগেই পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আশা করি নির্বাচনের আগেই পদোন্নতি হয়ে যাবে।’

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা :শীর্ষ পদ শূন্য থাকা এবং অনেক কর্মকর্তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখায় বাহিনীর অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এসপি বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, ব্যবস্থা নিন। কিন্তু কোনো দায়িত্ব না দিয়ে এভাবে বসিয়ে রাখা অত্যন্ত হতাশাজনক।’

একজন ডিআইজি বলেন, ‘গত সরকার আমলে আমার তিন ব্যাচ জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। আমাকে কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এখন অবসরের দ্বারপ্রান্তে এসে পদোন্নতি না পেলে আমি ডিআইজি থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হব।’

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর কমপক্ষে ৪০ জন কর্মকর্তা, যাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এএসপি থেকে ঊর্ধ্বতন ২৩ জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও ৫৭ জন কর্মকর্তা এসপি থেকে এএসপি পর্যায়ের পলাতক বা ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদের অনেকেই শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।

একজন অতিরিক্ত এসপি বলেন, ‘পদোন্নতি আর বদলি নিয়ে আমাদের মানসিক চাপ এত বেশি যে, বাহিনীর কৌশলগত দক্ষতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চিন্তা অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।’

নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতির নির্দেশ :আইজিপি বাহারুল আলম মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু দিন আগে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনাসভায় তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে মোবাইল টহল, গার্ড পোস্ট, কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাসহ সব কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেন, ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক অপরাধী শনাক্ত করে গ্রেফতার বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা শাখাসহ সবাইকে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।