বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

পুলিশে ৪২৪ পদ শূন্য, কার্যত নিষ্ক্রিয় ১১৯ কর্মকর্তা

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সহকারী পুলিশ সুপার পর্যায়ে বর্তমানে মোট ৪২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের ১১৯ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রয়েছেন, কিন্তু তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নেই। অধিকাংশই প্রতিদিন হাজিরা দিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকছেন। এই […]

পুলিশে ৪২৪ পদ শূন্য, কার্যত নিষ্ক্রিয় ১১৯ কর্মকর্তা

পুলিশে ৪২৪ পদ শূন্য, কার্যত নিষ্ক্রিয় ১১৯ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক

০৩ জুলাই ২০২৫, ১০:১৯

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সহকারী পুলিশ সুপার পর্যায়ে বর্তমানে মোট ৪২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পর্যায়ের ১১৯ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত রয়েছেন, কিন্তু তাদের কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্ব নেই। অধিকাংশই প্রতিদিন হাজিরা দিয়ে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকছেন।

এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করছে, তারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। আমরা প্রস্তুত আছি।’

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, অতিরিক্ত আইজিপির মোট ২৯টি পদের মধ্যে নয়টি, যার মধ্যে দুইটি গ্রেড-১ ও সাতটি সুপারনিউমারারি পদ এখনো শূন্য। ডিআইজির ১৫২টি পদের মধ্যে ৩৪টি শূন্য রয়েছে। ৩৪১টি অতিরিক্ত ডিআইজির মধ্যে দুটি, ১ হাজার আটটি অতিরিক্ত এসপির মধ্যে ৪৭টি এবং ১ হাজার ২৩১টি এএসপির মধ্যে ৩৩২টি পদ এখনো খালি। পুলিশ সুপারের ৭৪৬টি অনুমোদিত পদের কোনোটিই শূন্য না থাকলেও, অন্তত ৫৭ জন এসপি বিভিন্ন ইউনিটে সংযুক্ত আছেন, যাদের নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব নেই।

তবে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এনামুল হক সাগর ইত্তেফাককে বলেন, ‘পদোন্নতি, বদলি ও শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া।’ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আগেই পদোন্নতি দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে নির্বাচন প্রস্তুতির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আশা করি নির্বাচনের আগেই পদোন্নতি হয়ে যাবে।’

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা :শীর্ষ পদ শূন্য থাকা এবং অনেক কর্মকর্তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় রাখায় বাহিনীর অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এসপি বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি। যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, ব্যবস্থা নিন। কিন্তু কোনো দায়িত্ব না দিয়ে এভাবে বসিয়ে রাখা অত্যন্ত হতাশাজনক।’

একজন ডিআইজি বলেন, ‘গত সরকার আমলে আমার তিন ব্যাচ জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। আমাকে কখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এখন অবসরের দ্বারপ্রান্তে এসে পদোন্নতি না পেলে আমি ডিআইজি থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হব।’

গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর কমপক্ষে ৪০ জন কর্মকর্তা, যাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকারীদের গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এএসপি থেকে ঊর্ধ্বতন ২৩ জন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও ৫৭ জন কর্মকর্তা এসপি থেকে এএসপি পর্যায়ের পলাতক বা ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদের অনেকেই শেখ হাসিনার সরকারের সময় রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত।

একজন অতিরিক্ত এসপি বলেন, ‘পদোন্নতি আর বদলি নিয়ে আমাদের মানসিক চাপ এত বেশি যে, বাহিনীর কৌশলগত দক্ষতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চিন্তা অনেক সময় চাপা পড়ে যায়।’

নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতির নির্দেশ :আইজিপি বাহারুল আলম মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু দিন আগে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনাসভায় তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে মোবাইল টহল, গার্ড পোস্ট, কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাসহ সব কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেন, ইন্টেলিজেন্স ভিত্তিক অপরাধী শনাক্ত করে গ্রেফতার বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা শাখাসহ সবাইকে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।