রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলাই যেন ভারতের দুই মূর্খ নেতার চরিত্র

বাংলাদেশ নিয়ে কিছু বললেই হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় রাজনীতিবিদদের পিত্তি গলে। ভালো-মন্দ, যুক্তি-বিজ্ঞান, প্রতিবেশী সম্পর্ক কিংবা কূটনৈতিক সৌজন্য—কোনো কিছু বিবেচনা না করেই বাংলাদেশবিরোধী বিষোদ্গার যেন তাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর জ্বলন্ত প্রমাণ হয়ে উঠেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই বিতর্কিত নেতা—ত্রিপুরার প্রদ্যোৎ মাণিক্য দেববর্মা এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এই দুইজন এমন সব উগ্র, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য […]

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলাই যেন ভারতের দুই মূর্খ নেতার চরিত্র

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০১:০৭

বাংলাদেশ নিয়ে কিছু বললেই হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় রাজনীতিবিদদের পিত্তি গলে। ভালো-মন্দ, যুক্তি-বিজ্ঞান, প্রতিবেশী সম্পর্ক কিংবা কূটনৈতিক সৌজন্য—কোনো কিছু বিবেচনা না করেই বাংলাদেশবিরোধী বিষোদ্গার যেন তাদের স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর জ্বলন্ত প্রমাণ হয়ে উঠেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দুই বিতর্কিত নেতা—ত্রিপুরার প্রদ্যোৎ মাণিক্য দেববর্মা এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

এই দুইজন এমন সব উগ্র, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন, যা শুধু প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ নয়—বরং সরাসরি হিন্দুত্ববাদী অহমিকার নগ্ন প্রকাশ।

প্রদ্যোৎ মাণিক্য দেববর্মা সম্প্রতি বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন সব কথা বলেছেন যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার তো দূরের কথা, সাধারণ কূটনৈতিক শালীনতারও চরম লঙ্ঘন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ভারতের উচিত ‘বাংলাদেশের কিছু অংশ দখল করে নেয়া’। কারণ তার দাবি, ‘ওই অংশ সবসময় ভারতেরই হতে চেয়েছে’। তিনি আরো বলেন, এতে ভারতের ‘সাগরপথ পাওয়া সহজ হবে’ এবং ‘শত শত কোটি টাকা খরচ না করেও’ সমস্যার সমাধান হবে।

এই ধরনের মন্তব্য ভারতীয় আগ্রাসী মানসিকতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। প্রদ্যোৎ মাণিক্যদের কাছে ইতিহাসের সত্য, স্বাধীনতার ত্যাগ, ও জাতীয় মর্যাদা যেন মূল্যহীন। যারা নিজেদের “আদিবাসী স্বার্থ” রক্ষার নামে স্বাধীন বাংলাদেশকে টুকরো করার হুমকি দেয়, তারা আদতে হিন্দুত্ববাদী চেতনার মোড়কে জঙ্গিবাদী রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরে দেওয়া বক্তব্য ছিল একেবারেই বাস্তবভিত্তিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক। তিনি বলেন, “ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য স্থলবেষ্টিত, যাদের সমুদ্রপথ নেই—বাংলাদেশই তাদের জন্য একমাত্র সমুদ্রপথের সম্ভাব্য অভিভাবক।” তিনি কোনো হুমকি দেননি, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক আন্তঃসম্পর্কের সম্ভাবনার কথাই বলেছেন। এমনকি তিনি এও বলেন, “নেপাল ও ভুটানও স্থলবেষ্টিত, এবং এই পুরো অঞ্চলে যদি আন্তঃযোগাযোগ গড়ে ওঠে, তাতে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতা—দুই-ই উপকৃত হবে।”

কিন্তু এই বক্তব্যের গভীরতা অনুধাবন না করে প্রদ্যোৎ মাণিক্য ও হিমন্ত বিশ্বশর্মা উল্টো রণচণ্ডী হয়ে উঠেছেন। তাদের মতো হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিবিদদের কাছে আঞ্চলিক সংহতি, কূটনৈতিক সৌজন্য, এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো—সবই যেন গালি।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা তো আরও একধাপ এগিয়ে ইউনূসের মন্তব্যকে “আপত্তিকর” এবং “নিন্দনীয়” বলে ঘোষণা দিয়ে ‘চিকেনস নেক’ করিডরের চারপাশে আরও শক্তিশালী রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরির ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিকল্প পথ তৈরি করতে হবে—যেন বাংলাদেশ নামক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রয়োজনই না পড়ে।

এই সব বক্তব্য আসলে হিন্দুত্ববাদী পররাষ্ট্রনীতির অন্ধ চেহারা তুলে ধরে, যেখানে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সৌহার্দ্য নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহ ও দখলের রাজনীতি চলে।

প্রদ্যোৎ মাণিক্যের মূর্খতা আরও চরমে পৌঁছায় যখন তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বন্ধু নয়। শেখ মুজিবই ছিল একমাত্র বন্ধু।’ অর্থাৎ, বর্তমান বাংলাদেশ সরকার, জনগণ, এবং রাজনীতি—সবই তাদের চোখে শত্রু! অথচ বাংলাদেশ প্রতিটি দুর্যোগে ভারতকে সহায়তা করেছে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, সীমান্তে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

এই দুই নেতার বক্তব্য শুধু প্রতিবেশী বাংলাদেশ নয়—ভারতের নিজস্ব যুক্তিবোধ ও রাজনীতিকেও ছোট করেছে। একদিকে যখন ড. ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তি আঞ্চলিক অগ্রগতির রূপরেখা উপস্থাপন করছেন, তখন হিমন্ত-প্রদ্যোৎরা চিৎকার করে নিজেদের উন্মত্ততাকে উপহাসে পরিণত করছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, ভূখণ্ড ও মর্যাদা নিয়ে কথা বলার আগে ভারতের এসব মূর্খ নেতাদের জেনে রাখা উচিত—বাংলাদেশ কোনো দয়া করা দেশ নয়। এটি রক্তে কেনা স্বাধীনতা, এখানে কারও হুমকি-ধমকিতে মাথা নোয়ানোর সংস্কৃতি নেই।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২৫

আন্তর্জাতিক

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে […]

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

তিন দেশের নাগরিকদের প্রবেশ ও ভিসা স্থগিত করল সৌদি আরব

ডেস্ক রিপোর্ট

২৭ জুন ২০২৬, ১০:০৯

ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে এই তিন দেশ থেকে আসা যেকোনো ভ্রমণকারীর জন্য ভিসা ইস্যু এবং সৌদিতে প্রবেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি ওই তিন দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়, বরং তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে যারা সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে। সৌদিতে প্রবেশের আগের ২১ দিনের মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তি এই তিন দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করে থাকেন, তবে তিনিও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। এছাড়া সৌদি নাগরিকদেরও ওই তিন দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়াকায়া’ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক ব্যাধির আন্তঃসীমান্ত বিস্তার রোধে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইবোলা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সৌদি আরবের প্রবেশপথগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (স্ক্রিনিং), রোগ নজরদারি এবং দ্রুত সাড়াদান প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র—যেমন রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ব্রাজাভিল) থেকে আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চালুর পর থেকে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহামারি পরিস্থিতির ওপর সৌদি কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২৫

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ যোগ দিলে তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মিত্র কিংবা অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এবার তার জবাব আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন দেশটির সামরিক নীতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

তবে আকরামিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ ইরান আগাম হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়ার পরিসর মূল হামলার চেয়েও বড় হবে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২৫

আন্তর্জাতিক

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের […]

প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুন ২০২৬, ১০:৪৫

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী ভারতের নাম উল্লেখ না করে হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন যে তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত দিলে সেই হাত কেটে ফেলা হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী সি আর পাতিল কর্তৃক আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সমস্ত পানি সম্পূর্ণ ব্যবহারের ঘোষণার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এল।

ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক সরাসরি অভিযোগ করেন যে প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী সিন্ধু নদের পানির কলটি নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তিনি পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও আসতে দিতে চান না।

পাকিস্তানি এই মন্ত্রী বলেন যে তাদের দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অন্য কেউ এসে তাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং ২৫ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পানির অধিকার খর্ব করা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবেন।

মুসাদিক মালিক আরও যুক্তি দেন যে আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী চুক্তি না থাকলেও নদীর উপরিভাগে থাকা দেশগুলো নিচের দেশের পানি প্রবাহ বন্ধ করতে পারে না।

অথচ দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য নিম্ন অববাহিকার শিশুদের পানির অধিকার রয়েছে কি না এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনটা প্রকৃত ন্যায়বিচার, তা নির্ধারণের জন্য তারা এই বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন যে সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিটি আইনগতভাবে এখনও বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ এককভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না।

তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে সিন্ধু নদের পানি পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এটি তাদের জন্য একটি লাল রেখা বা ‘রেড লাইন’।

অন্য দিকে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় ও স্পষ্ট। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে একটি ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ মোট ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়া দিল্লি এই ঐতিহাসিক পানিবণ্টন চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা মুলতবি ঘোষণা করে।

ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে পাকিস্তান যতক্ষণ না তাদের মাটিতে লালিত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার সন্ত্রাসী পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দৃশ্যমান প্রমাণ দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।

সূত্র: এনডিটিভি

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১২৫