বাংলাদেশে বসবাসরত বা ভ্রমণরত চীনা নাগরিকদের বিয়ের ক্ষেত্রে অবৈধ ম্যাচমেকিং সেবা বা দালালচক্রের সহায়তা না নেওয়ার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, দালাল বা বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে স্ত্রী খুঁজতে বাংলাদেশে এলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মানব পাচার-সংক্রান্ত অপরাধে গ্রেপ্তার হতে পারেন।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন ও গুরুত্বের ভিত্তিতে এই শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া পাচার-সংক্রান্ত কম গুরুতর অপরাধ কিংবা এ ধরনের অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনার দায়ে তিন থেকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
চীনা দূতাবাস জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা নাগরিকদের জড়িয়ে আন্তর্জাতিক বিয়েকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দূতাবাস জোর দিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক বিয়ে অবশ্যই পারস্পরিক সম্মতি ও আন্তরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ‘কনে কেনা’ বা অর্থের বিনিময়ে বিয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায়ই আর্থিক প্রতারণা, শোষণ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দূতাবাস আরও জানায়, বিদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিয়ের নামে প্রতারণা থেকে তাদের রক্ষা করতে চীন সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এর আগে ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, লাওস, পাকিস্তান ও নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাসও একই ধরনের সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল।
চীনের সুপ্রিম পিপলস প্রকিউরেটরেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত মানব পাচার ও প্রতারণামূলক ম্যাচমেকিংয়ের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১ হাজার ৫৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে চীনা পুরুষরা বিদেশি স্ত্রী পাওয়ার আশায় বিপুল অর্থ ব্যয় করার পর প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আবার কিছু ঘটনায় নারীদের অপহরণ করে জোরপূর্বক চীনা নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?